Stock Bangladesh News
আর্থিক খাতে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ
আর্থিক খাতে সার্বিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে তথ্য আদান-প্রদান, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পরামর্শ বিনিময়ের উদ্দেশ্যে চার নিয়ন্ত্রক সংস্থা গতকাল রোববার নিজেদের মধ্যে 'মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং অন কো-অর্ডিনেটেড সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড সুপারভিশন' নামে এক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাক্ষরকারী নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো_ বাংলাদেশ ব্যাংক, শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (এমআরএ)।
আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারে যে কোনো অনিয়ম ও কারসাজি প্রতিরোধ অথবা সংঘটিত কোনো অনিয়ম বা কারসাজির হোতাদের শনাক্ত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে এই সমাঝোতা চুক্তি (এমওইউ) ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া এই চুক্তির অধীনে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সংস্কার বা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো পরস্পরকে অবহিত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণ করতে পারবে।
সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামান, আইডিআরএর পক্ষে সদস্য নবগোপাল বণিক, এসইসির পক্ষে নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান এবং এমআরএর পক্ষে পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষর করেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি সংঘটিত নানা আর্থিক ও শেয়ারবাজারের কারসাজির হোতাদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সার্বিক তথ্য আদান-প্রদান এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। যদিও সংস্থাগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য আদান-প্রদানে বর্তমানেও কাজ করছে। তবে এতে সমন্বয় না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকই উদ্যোগী হয়ে এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী চার সংস্থা নিজস্ব কোনো পদক্ষেপ বা নির্দেশনা বা আইনি সংস্কার অন্য কোনো সংস্থার ক্ষেত্রে বা সংস্থার অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপর প্রভাব থাকলে আগেই পরস্পরকে অবহিত ও মতামত গ্রহণ করবে।
এ ছাড়া কারসাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে পরস্পরকে তথ্য প্রদান করবে এবং প্রয়োজনে সতর্কতা গ্রহণের জন্য পরামর্শ প্রদান করতে পারবে। সংস্থাগুলো প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার যৌথ বৈঠকে বসার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
চুক্তির প্রধান চার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে সংস্থাগুলো একটি স্বেচ্ছাভিত্তিক সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অবকাঠামো প্রস্তুত করবে। নিয়মিতভাবে বা জরুরি প্রয়োজনে সংস্থাগুলোর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সংস্থাগুলো এমন কোনো পদক্ষেপ বা আইনি সংস্কার করবে না, যা আর্থিক খাতে বা অন্য কোনো সংস্থার অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। সংস্থাগুলোর পরস্পরবিরোধী নির্দেশনা জারি সংক্রান্ত ঝুঁকি হ্রাস করা। তবে এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে কোনো সংস্থার ওপর অন্য কোনো সংস্থার কর্তৃত্ব স্থাপিত হবে না এবং সংস্থাগুলো তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্বাধীন কার্যক্রম পরিচালনায় কোন বাধা হিসেবে কাজ করবে না।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংস্থাগুলো শিগগিরই তাদের স্ব স্ব সংস্থার পক্ষে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে মনোনীত করবে। এ ছাড়া তাদের পারস্পরিক আলোচনার বিষয়গুলো চিহ্নিত করে তা পরস্পরকে অবহিত করবে। চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ঘটবে। আর্থিক খাতের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পারস্পরিক সংলাপ ও তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে সংস্থাগুলোর মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে উঠবে। গভর্নর বলেন, পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও তদারকির ক্ষেত্রে মতপার্থক্য দূর করে সমন্বিত নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে।
Source : samakal