Stock Bangladesh News
বৈদেশিক ঋণের ৫০ প্রকল্প ইআরডির নজরদারিতে
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর ঋণে চলমান গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এর অংশ হিসেবে চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ও অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ৫০ প্রকল্প বাছাই করেছে ইআরডি। ১৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে এসব প্রকল্প বাছাই করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আগামী মাসের শেষের দিকে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইআরডি। গত সপ্তাহে ১৮ মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইআরডির সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ এ বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে ইআরডির যুগ্ম সচিব মাহমুদা বেগম কালের কণ্ঠকে জানান, ৫০ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে শিগ্গিরই একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পগুলোর কর্মপরিকল্পনা, সর্বশেষ বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে প্রতি তিন মাস পর বৈঠকে বসবে ইআরডি। বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হবে। কোনো প্রকল্পে জটিলতা থাকলে তা ওই বৈঠকেই সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক ঋণ বাবদ ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এই ৫০ প্রকল্পের বিপরীতে বৈদেশিক ঋণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৪১২ কোটি টাকা, যা বৈদেশিক ঋণের মোট বরাদ্দের ৬৭ শতাংশ।
অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত যে ৫০ প্রকল্প ইআরডি বাছাই করেছে, তার অন্যতম একটি হচ্ছে শাহ্জালাল সার কারখানা প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এ প্রকল্পে চীন প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এ প্রকল্পে এক হাজার ৮২২ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন আরেকটি প্রকল্প হচ্ছে আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট কমবাইন্ড বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) এ প্রকল্পে আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। ইআরডির নজরদারিতে আরো রয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প।
ইআরডি সূত্র জানায়, চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতগুলো নীতি, কৌশল ও করণীয় নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিশ্রুত অর্থ দ্রুত ছাড় করতে এখন থেকে নিয়মিত আন্তমন্ত্রণালয় সভা করতে ইআরডিকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট বৃহৎ ৫০ প্রকল্প ইআরডির মাধ্যমে পরিবীক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনার আলোকে ইআরডি ৫০ প্রকল্প বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে। এ ছাড়া প্রতি তিন মাস পর এ প্রকল্পগুলো নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি ইআরডির সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম (জুলাই) মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ছাড় হয়েছে। আর অর্থ ছাড়ের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় ইআরডি। এ ধারবাহিকতা ধরে রাখতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে ইআরডি।
প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে অর্থ ছাড় হয়েছে ২১ কোটি ৯ লাখ ডলার। গত বছর (২০১১-১২) এ সময়ে যা ছিল পাঁচ কোটি ৪২ লাখ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই অর্থবছরের প্রথম মাসে ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি বৈদেশিক অর্থ পাওয়া গেছে। এর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরের একই সময়ে পাওয়া গিয়েছিল তিন কোটি ৫৬ লাখ ডলার।
অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ৫০ প্রকল্পের মধ্যে আরো রয়েছে_থ্রি জি প্রযুক্তি চালুকরণ ও ২.৫ জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। ইডিসিএফ এ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। আরো রয়েছে ঢাকা পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্প, এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। এ প্রকল্পে এডিবি এক হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্প রয়েছে। এ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি)। ২০১০ অনুমোদিত এ প্রকল্পটি ২০১৪ সালের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডাব্লিউএফপি ঋণ দিচ্ছে ৫৪৫ কোটি টাকা। মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি প্রকল্প রয়েছে। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে আইডিএ দিচ্ছে ৯৯১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে আইডিএ বরাদ্দ দিয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ে সেক্টর উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি দিচ্ছে এক হাজার ২৪৩ কোটি টাকা।
Source : kalerkantho