Stock Bangladesh News
ডিএসইর একগুচ্ছ প্রস্তাব পাস
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্তির নীতিমালা এবং নতুন কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম নেয়ার বিষয়ে বেশকিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। একই সঙ্গে বিদ্যমান ক্যাটাগরির সঙ্গে ‘পি’ ক্যাটাগরি নামে নতুন একটি ক্যাটাগরি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। শীঘ্রই এসইসিতে এগুলো প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে। এসইসির সম্মতিক্রমে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা পাস করা হবে বলে পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে।
সোমবার বিকেলে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব বিষয় জানান। এ সময় ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহমেদ রশিদ লালীসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রকিবুর রহমান বলেন, ডিএসইতে ‘পি’ ক্যাটাগরি নামে নতুন একটি ক্যাটাগরি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে ভাল কোম্পানিগুলো স্থান পাবে। এই ক্যাটাগরিতে আসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে হবে। এ ছাড়া আর্থিক বছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পাস করাতে হবে এবং চার মাসের মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা করতে হবে। তবে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে ছয় মাসের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন পাস করিয়ে সাত মাসের মধ্যে এজিএম করতে হবে। এ ছাড়া কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ইন্টারন্যাশনাল এ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএএস) ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস) অনুযায়ী হতে হবে। এসইসির কর্পোরেট গবর্নেন্স পুরোপুরি পরিপালন করতে হবে। তবে কোন কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস পর পর দুবছর ঋণাত্মক হলে ওই কোম্পানি এই গ্রুপে চলে আসবে।
নতুন কোনো কোম্পানি প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রকিবুর রহমান বলেন, কোন কোম্পানির প্রিমিয়াম ১৫ টাকা নেয়া হলে ওই কোম্পানির ৫০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য, ১০ শতাংশ প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য, ১০ শতাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর জন্য এবং বাকি ৩০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও স্টক ডিলারদের জন্য বরাদ্দ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও স্টক ডিলারদের বরাদ্দকৃত অংশ ৩০ দিন লকইন রাখতে হবে।
অন্যদিকে ১৫টাকার বেশি প্রিমিয়াম নেয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ২৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাংশ প্রবাসী বাংলাদেশী, ১০ শতাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ৫৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও স্টক ডিলারদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও স্টক ডিলারদের জন্য বরাদ্দকৃত অংশ ৯০ দিন লকইন থাকবে। এ ছাড়া উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেবল ব্লক বাজারে বিক্রি করতে হবে। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের প্লেসমেন্ট না দেয়ার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া তালিকাভুক্তির বিষয়ে রকিবুর রহমান বলেন, কোন কোম্পানি তালিকাভুক্তির সময় আইপিওর প্রসপেক্টাসে আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যয়ের যে সব খাত দেখানো হয়েছিল তা পরবর্তী তিন বছর আর্থিক প্রতিবেদনের প্রথমেই রাখতে হবে। আইপিওর টাকা যে ব্যাংকের মাধ্যমে তোলা হবে ওই ব্যাংককেই অর্থ খরচের সার্টিফিকেট দিতে হবে। এক্ষেত্রে সেবা খাত ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান আইপিওর ৩০ শতাংশ অর্থ ঋণ পরিশোধ করতে পারবে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ কোম্পানির আকার বাড়াতে ব্যয় করতে হবে।
আইপিওর প্রসপেক্টাস জমা দেয়ার সময় কর্পোরেট গবর্ন্যান্স গাইড লাইন অনুযায়ী একজন স্বাধীন পরিচালকের নাম এসইসিতে জমা দিতে হবে, যাঁর এ্যাকাউন্টিং সম্পর্কে সম্মক ধারণা থাকতে হবে। একই সঙ্গে ওই স্বাধীন পরিচালককে কোম্পানির অডিট কমিটির প্রধান হতে হবে। এ ছাড়া কোম্পানির হিসাব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবশ্যই নিবন্ধিত এ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে হবে। আর প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত কোম্পানি ও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের আগের পাঁচ বছরের কর পরিশোধের তথ্য দিতে হবে। এ ছাড়া আন্ডাররাইটার বা অব লেখকদের ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে এবং আন্ডাররাইটাররা নিজেদের পরিশোধিত মূল্যধনের পাঁচ গুণের বেশি আন্ডাররাইট করতে পারবে না।
আর এন স্পিনিংয়ের রাইট শেয়ার জটিলতার ব্যাপারে ডিএসইর এই নেতা বলেন, আরএন স্পিনিংয়ের রাইট শেয়ারের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ডিএসইর পক্ষ থেকে এসইসির সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
Source : dailyjanakantha