Company Quick Quote

COURSES [View All]

Certificates and Events


LATEST POST IN BLOG       view blog

Separate Bull and Bear AFL for Amibroker 03-Feb
Candlestick Recognition AFL 27-Aug
Interpretation of Volume Zone Oscillator (VZO) 30-Apr
Volume Zone Oscillator (VZO) 25-Apr
Rules of Protection 08-Apr


Individual Return

The required rate of return is the minimum rate of return that an investor requires before investing capital. The degree of risk associated with an investment is reflected in the required rate of return.The Capital Asset Pricing Model (CAPM) is a method used in determining the required rate of return associated with an investment. See All

Beta Coefficient

Beta measures risk of particular security regarding overall market risk Click Here

Sector Beta (B)

If B < 0, The stock moves contrary to the market in an inverse relationship. As the market increases, the value of this stock is expected to decrease.

If B = 0, The stock’s returns are unrelated to market moves.

If 0 < B < 1, The stock is expected to move more slowly than the market.

If B = 1, The stock should move in a manner very similar to the market as a whole.

If B > 1, The stock has proven over time to be more volatile than the market.See all

Sector PE

A sector PE is a PE ratio for a whole sector rather than an individual company. A market PE is the same for an entire market See all

Category PE

Category P/E gives you individual P/E calculation of category basis like A, B, N and Z. By this tool you can easily to take decision what category of share investment is good or bad See all

Dividend Yield

Dividend yield is a market based investment ratio which explains how much a company pays in dividends each year relative to its share price. In other words, it is a way to measure the cash flow the investor is getting for their investment See all


LAFSURCEML 72 59.5 12.50 21.01
GREENDELT 87.2 77.5 9.70 12.52
EASTRNLUB 583 520.7 62.30 11.96
RAHIMAFOOD 46.3 41.6 4.70 11.30
MPETROLEUM 311.4 284.2 27.20 9.57
SOUTHEASTB 20 18.3 1.70 9.29
SALVOCHEM 21 19.4 1.60 8.25
ABBANK 29.6 27.4 2.20 8.03
AGNISYSL 22.2 20.6 1.60 7.77
EMERALDOIL 49.2 45.7 3.50 7.66

Contest SB2014_Apr



Positive impact
UNIQUEHRL 71.5 67.8 2.12577 261700.00
SOUTHEASTB 20 19.1 1.61051 4030500.00
ICB 1810.75 1792.75 1.48195 3850.00
BSRMSTEEL 67.9 66.2 1.13387 272000.00
BEXIMCO 28.9 27.8 1.12191 848900.00
Negative impact
GP 250.3 254.6 -11.33116 782800.00
BATBC 2479.9 2527.5 -5.57358 650.00
HEIDELBCEM 555.7 591.2 -3.91454 358900.00
SQURPHARMA 280.7 283.7 -2.82191 395550.00
TITASGAS 83.9 85.2 -2.50965 962500.00


MPETROLEUM 311.4 315 305.8 0.19% 268.15
LAFSURCEML 72 72.9 68 5.42% 262.94
HEIDELBCEM 555.7 585 552.9 -6.00% 202.26
GP 250.3 255 247.1 -1.69% 196.13
OLYMPIC 238.3 244.7 237.5 -1.73% 157.80
PADMAOIL 352.7 359.1 351 -1.15% 152.31
SQURPHARMA 280.7 285.9 280.1 -1.06% 111.61
UCBL 24.8 25.2 24.4 2.06% 94.46
ABBANK 29.6 29.9 28.6 3.14% 86.52
FAMILYTEX 56 56.1 51.6 9.80% 85.15


Already a User! Sign in
New User? Register Now
Confirm Password


Daily Logo
  • ফুয়েল এন্ড পাওয়ার খাতে সর্বাধিক লেনদেন
    মোঃ নাফিজুর রহমানঃ আজ রবিবার ডি.এস.ই এর সুচকের সাথে লেনদেনও বেশ খানিকটা বেড়েছে। প্রতিটি সেক্টরেই লেনদেনের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হলেও ব্যাংক সেক্টরের লেনদেন বেশ খানিকটা বেড়েছে। আজ লেনদেনের দিক থেকে প্রথম তিনটি খাত ছিল যথাক্রমে ফুয়েল এন্ড পাওয়ার, সিমেন্ট এবং ব্যাংক খাত। ফুয়েল এন্ড পাওয়ার লেনদেনের দিক থেকে প্রথম অবস্থানে ছিল ফুয়েল এন্ড পাওয়ার খাত। আজ এই খাত দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মিশ্র প্রবণতা দেখা গেলেও দিনশেষে নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। আজ এই খাতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৯.১৯ কোটি টাকা যা এর আগেরদিনের তুলনায় ৬.১ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। আজ এ খাতে বাজারের মোট লেনদেনের ১৭.৫% লেনদেন হয়েছে যা এর আগেরদিনের তুলনায় ০.৭% হ্রাস পেয়েছে। আজ এই খাতের মোট ১৫ টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে যার মধ্যে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ টি, হ্রাস পেয়েছে ১০ টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ০ টি কোম্পানির শেয়ারের মূল্য। আজ এই খাতে সবথেকে বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে বিডি ওয়েল্ডিং কোম্পানির (৭.৬৫%) এবং সবথেকে বেশী হ্রাস পেয়েছে লিন্ডেবিডি কোম্পানির (২.৫৪%) শেয়ারের দর। সিমেন্ট লেনদেনের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সিমেন্ট খাত। আজ এই খাত দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মিশ্র প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে এবং দিনশেষে নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। আজ এই খাতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫০.৯ কোটি টাকা যা এর আগেরদিনের তুলনায় ৮.৮ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। আজ এ খাতে বাজারের মোট লেনদেনের ১৩% লেনদেন হয়েছে যা এর আগেরদিনের তুলনায় ১.৬% হ্রাস পেয়েছে। আজ এই খাতের মোট ৭ টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে যার মধ্যে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ২ টি, হ্রাস পেয়েছে ৫ টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ০ টি কোম্পানির শেয়ারের মূল্য। আজ এই খাতে সবথেকে বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে লাফারজ সুরমা সিমেন্ট কোম্পানির (৫.৪২%) এবং সবথেকে বেশী হ্রাস পেয়েছে হেইডেলবারগ সিমেন্ট কোম্পানির (৬%) শেয়ারের দর। ব্যাংক লেনদেনের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ব্যাংক খাত। আজ এই খাত দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে এবং দিনশেষে বেশ ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। আজ এই খাতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫০.১ কোটি টাকা যা এর আগেরদিনের তুলনায় ১৬.৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ এ খাতে বাজারের মোট লেনদেনের ১২.৮% লেনদেন হয়েছে যা এর আগেরদিনের তুলনায় ৪.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ এই খাতের মোট ৩০ টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে যার মধ্যে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ টি, হ্রাস পেয়েছে ৩ টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ২ টি কোম্পানির শেয়ারের মূল্য। আজ এই খাতে সবথেকে বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে সাউথ ইস্ট ব্যাংক কোম্পানির (৪.৭১%) এবং সবথেকে বেশী হ্রাস পেয়েছে শাহজালাল ব্যাংক কোম্পানির (৩.৪৫%) শেয়ারের দর।    
  • সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ১৪ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা
    স্টাফ রিপোর্টার : সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নগদ ১৪ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। শনিবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ লভ্যাংশ প্রস্তাব করা হয়। এ বৈঠকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনা করা হয়। আলোচিত বছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৯৮ পয়সা আয় করেছে। আগামি ১৯ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ এপ্রিল।
  • থ্রিজি উন্মাদনা কাটছে
    এসবি ডেস্ক : থ্রিজি আসছে- এ উন্মাদনায়ই কেটে যায় বছরখানেক। এর পর গত বছরের শেষ দিকে চালু হয় নতুন প্রযুক্তির সেবাটি। এজন্য বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগও করে সেলফোন অপারেটরগুলো। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই সে উন্মাদনায় ভাটা পড়েছে। থ্রিজির ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে অপারেটররা। সেবা পেতে বিড়ম্বনার অভিযোগ তুলছেন গ্রাহকও। থ্রিজি পরিষেবার লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দ ফি বাবদই সেলফোন অপারেটরগুলোর খরচ হয়ে গেছে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে আরো কয়েক হাজার কোটি টাকা। এর পর গত বছরের অক্টোবরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সেবাটি চালু হয়। কিন্তু ছয় মাসেও ইন্টারনেটের নতুন গ্রাহক সেভাবে সৃষ্টি করতে পারেনি কোনো অপারেটরই। ডাটাভিত্তিক সেবা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধিতেও বড় কোনো উল্লম্ফন নেই। খাতটি থেকে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধিতে নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। উপরন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই থ্রিজি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে স্বাভাবিক সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। শীর্ষ সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটির ডাটাভিত্তিক সেবা থেকে আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৫ শতাংশ। গত অক্টোবরে থ্রিজিসেবা চালুর পরও ২০১৩ সালে এ থেকে অপারেটরটির আয়ের প্রবৃদ্ধি মাত্র ১৭ শতাংশ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির থ্রিজিসেবার গ্রাহকসংখ্যা সাড়ে সাত লাখ, যা মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ১০ শতাংশেরও কম। যদিও দেশের সব কটি জেলায়ই থ্রিজি নেটওয়ার্ক চালু করেছে অপারেটরটি। জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স সৈয়দ তাহমিদ আজিজুল হক বলেন, থ্রিজি প্রযুক্তির সেবা সবে চালু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার ওপর নতুন এ প্রযুক্তির প্রভাব সম্পর্কে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারি শেষে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬১ লাখ। এর মধ্যে সেলফোন অপারেটরদের ইন্টারনেট গ্রাহক ৩ কোটি ৪৬ লাখ। যদিও থ্রিজিসেবা চালুর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এ সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৪৯ লাখের বেশি। অর্থাৎ থ্রিজিসেবা চালুর পর সেলফোন অপারেটরদের ইন্টারনেটসেবার গ্রাহক না বেড়ে উল্টো কমেছে। বিপরীতে গ্রাহক বেড়েছে তারভিত্তিক ফিক্সড ইন্টারনেটসেবার। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসপিএবি) সাবেক সহসভাপতি সুমন আহমেদ সাবির এ প্রসঙ্গে বলেন, মোবিলিটি প্রয়োজন, এমন ক্ষেত্রেই শুধু তারবিহীন ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে। তবে দ্রুতগতির ও বেশি ডাটা ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে, এমন সব ক্ষেত্রে তারভিত্তিক ইন্টারনেটই কার্যকর। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোয়ও এ মাধ্যমের ওপর নির্ভরতা এখনো বেশি। তাই থ্রিজিসেবার কারণে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে বলা যাবে না। সেলফোন অপারেটরদের বাণিজ্যিক সাফল্য নির্ভর করে মূলত গ্রাহকসংখ্যার ওপর। ভয়েস কলনির্ভর টুজির ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে নিজেদের নেটওয়ার্কে আকর্ষণ করতে পেরেছে অপারেটরগুলো। তবে ডাটানির্ভর থ্রিজিসেবার ক্ষেত্রে সাফল্যটা সেভাবে আসছে না। খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, থ্রিজির ক্ষেত্রে গ্রাহক প্রবৃদ্ধি অনেক ধীরগতির। তাই অপারেটরদের এক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। টুজি থেকে থ্রিজিতে রূপান্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে মূলত তিনটি বিষয় জড়িত। এগুলো হলো— প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি, প্রচলিত ভয়েসনির্ভর সেবা থেকে গ্রাহকদের ডাটানির্ভর সেবায় নিয়ে আসা ও এ প্রযুক্তি উপযোগী হ্যান্ডসেট সুলভে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেয়া। দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিচেনায় নিয়ে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চপ্রযুক্তির এ সেবা গ্রহণের উপযোগী হ্যান্ডসেটের মূল্য ও ডাটাভিত্তিক সেবার প্যাকেজ কেনার সামর্থ্যের বিষয়টিও গ্রাহক প্রবৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশ মোবাইল হ্যান্ডসেট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সাধারণ সম্পাদক ও সিম্ফনি মোবাইলসের পরিচালক রেজওয়ানুল হক বলেন, থ্রিজিসেবার বিস্তৃতিতে অপারেটরদের প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি সুলভে স্মার্টফোন পাওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এ ধরনের ডিভাইস আনা না গেলে বাধাগ্রস্ত হতে পারে থ্রিজিসেবার বিস্তার। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর নিলামের মাধ্যমে থ্রিজির তরঙ্গ বরাদ্দ নেয় গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল। লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দ বাবদ গ্রামীণফোন ১০ মেগাহার্টজের জন্য ব্যয় করে প্রায় ১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। অন্য তিন অপারেটরের প্রত্যেকে ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য ব্যয় করে ৮১৬ কোটি টাকা। এছাড়া বিদ্যমান টুজি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও থ্রিজির প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়নে চার সেলফোন অপারেটর গত অর্থবছর প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। এসব প্রস্তুতি শেষ করে গত বছরের ৭ অক্টোবর গ্রামীণফোন, ২১ অক্টোবর বাংলালিংক, ৩০ অক্টোবর রবি ও ৭ নভেম্বর এয়ারটেল বাণিজ্যিকভাবে এ সেবা চালু করে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ইউসুফ সরোয়ার উদ্দিন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে তারভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা থাকবেই। মূলত মোবিলিটি ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য থ্রিজির গ্রাহক হবে অনেকে। তবে এ প্রযুক্তিতে ব্যবহারোপযোগী কনটেন্ট সহজলভ্য না হলে প্রত্যাশিত মাত্রায় গ্রাহক পাওয়া সম্ভব হবে না। থ্রিজির লাইসেন্স নেয়ার পর থেকেই ব্যাপক প্রচারণা শুরু করে চার সেলফোন অপারেটর। দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়াও ফেলে এসব বিজ্ঞাপন। তবে থ্রিজি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রভাবে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা। তারা বলছেন, নেটওয়ার্ক উন্নয়নের কাজ চলছে, এমন এলাকায় কল ড্রপসহ আরো নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। লাইসেন্স পাওয়ার পর রবি এরই মধ্যে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি থ্রিজি বিটিএস স্থাপন করেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (করপোরেট কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া রিলেশন্স) সৈয়দ তালাত কামাল। তিনি বলেন, দ্রুত নেটওয়ার্ক উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রাহকদের উন্নত সেবাদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে রবি। প্রতিদিনই থ্রিজিসেবার গ্রাহক বাড়ছে। ফলে থ্রিজি থেকে রবির আয়ও বাড়ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের অনেক দেশেই থ্রিজি থেকে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি অপারেটররা। বিনিয়োগের তুলনায় এ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ নয়। ফলে বিদ্যমান টুজি নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই উন্নততর সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। দেশেও থ্রিজি চালুর পর একই ধরনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো।
  • রোববার এএফসি এগ্রো বায়োটেকের সভা
    স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক রোববার বিকেল ৩ টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। ডিএসই সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে কোম্পানির ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। এছাড়া বৈঠকে থেকে এই কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সমাপ্ত বছরের লভ্যাংশ ঘোষণা আসতে পারে। উল্লেখ্য, কোম্পানিটি ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে এই কোম্পানি ‘এন’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। এই কোম্পানির বর্তমান পিই রেশিও রয়েছে ২৫ দশমিক ৮১।
  • স্টক বাংলাদেশের ফ্রি বেসিক টেকনিক্যাল কোর্স সম্পন্ন
    স্টাফ রিপোর্টার : স্টক বাংলাদেশ লিমিটেডের দিনব্যাপী Executive Training Program on Free Course on Basic Technical Analysis Of stock Market বিষয়ে ফ্রি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। পুঁজিবাজার বিষযে বিনিয়োগকারীদের অতি আগ্রহের কারণে শনিবার বিকেলে স্টক বাংলাদেশ লিমিটেডের অফিসে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন মোঃ নাফিজুর রহমান। প্রশিক্ষণ বিকাল ৩টা থেকে চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এ বিষয়ে প্রশিক্ষক মোঃ নাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে প্রশিক্ষাণার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তারা টেননিক্যাল এনালাইসেস বিষয়ে আরো উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে চান। তিনি আরো বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ভিত্তিতে স্টক বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আরো নতুন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে পারে, যাতে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সফল হিসেবে দেখতে পান। দিনব্যাপী ফ্রি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর নার্গিস রুবিনা নামে এক প্রশিক্ষনার্থী বলেন, এ ধরণের কোর্স যেন ভবিষ্যতেও করা হয়। কেননা এমন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার সম্পর্কে আরো অধিক ধারণা পাবেন। এ বিষয়ে স্টক বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তৌফিকুল আরিফ জানান, পুঁজিবাজারে সাফল্যের জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। যে কারণে আগামীতে আমাদের আরো প্রশিক্ষণ চলবে। উল্লেখ্য, স্টক বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তপক্ষ পুঁজিবাজার বিষয়ে আগ্রহী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রায়ই ফ্রি টেকনিক্যাল কোর্স সম্পন্ন করে থাকে।
  • ‘বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে’
    এসবি ডেস্ক : ‘বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিবাচক মনোভাবই যথেষ্ট’ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি তানজিল চৌধুরী।তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার। যার প্রতিফলন এ মুহূর্তে বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আমরা আশা করছি আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের উপর গুরুত্ব দেবে সরকার।’ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে শনিবার সকালে বিএমবিএ’র ৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিএমবিএ’র সেক্রেটারি জেনারেল মশিউর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মুস্তফা কামাল, সদস্য মনিরুজ্জামান, মাহাবুব হোসেন মজুমদারসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তানজিল চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। ইতোমধ্যে বিএসইসির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রুলস রেগুলেশন পরিবর্তন করা হয়েছে। যার প্রতিফলন এ মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে না। তবে আগামীতে এ ইতিবাচক প্রতিফলন আমরা দেখতে পাব। ‘বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটি ধরে রাখার জন্য যে পরিমাণ লেনদেন দরকার তা হচ্ছে না। লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেই বাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রবিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বাজেট নিয়ে বিএমবিএ’র আলোচনা হবে। এই প্রথম এনবিআরের পক্ষ থেকে বাজেট বিষয়ে আলোচনার জন্য বিএমবিএকে ডাকা হয়েছে। আমাদের দুজন প্রতিনিধি এনবিআরের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বৈঠকে আমরা বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রস্তাবনা তুলে ধরব। শিগগিরই আমরা আরও একবার এনবিআরের সঙ্গে বসতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘প্রণোদনা প্যাকেজের প্রভিশনিংয়ের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা একটা দিকনির্দেশনা পেয়েছি। এটা আমরা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) পাঠিয়েছি। আমরা চাই বিএসইসি ওই নির্দেশনা যত দ্রুত সম্ভব বিএনবিআরকে অবহিত করবে।’ বিএমবিএ’র সভাপতি বলেন, ‘আমরা সেলফ রেগুলেটরি মেজার্স নিচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা চাই বাজারে স্বচ্ছতা যাতে আরও বৃদ্ধি পায়। করপোরেট গভর্ন্যান্সের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হোক। সম্মিলিতভাবে এসব যখন পরিপালন করা হবে তখন সকল পক্ষের প্রটেকশন নিশ্চিত হবে।’ তানজিল চৌধুরী বলেন, ‘আমি মনে করি সাংবাদিকসহ বাজার সংশ্লিষ্ট সকলের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। বাইরের দেশগুলোতে কিভাবে ক্যাপিটাল মার্কেট অপারেট করা হয় সেগুলো আমাদের দেখা দরকার। এ ছাড়া আটোমেশনের দিক থেকে আমাদের দেশ একটু পিছিয়ে আছে। তাই বাইরের দেশগুলোর অটোমেশন সম্পর্কে আমাদের জানা দরকার। দেশের বাইরে বা ভেতরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএমবিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকেও আমরা স্পন্সর করতে চাই।’ বিএমবিএ’র সদস্য ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা রবিবার এনবিআরের সঙ্গে আলোচনায় বসবো। সঞ্চিতির উপর বিদ্যমান কর প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে লভ্যাংশের উপর থেকে দ্বৈত কর প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানানো হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রভিশনিংয়ের (সঞ্চিতি) উপর ট্যাক্স (কর) দেওয়া বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর জন্য বড় সমস্যা। এটি যেহেতু আয় নয় তাই প্রভিশনিংয়ের উপর আরোপিত ট্যাক্স মওকুফ করা দরকার। তবে প্রভিশনিং আয় হিসেবে গণ্য হলে তবেই ট্যাক্স দেওয়া যেতে পারে। এমতাবস্থায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধানে ৩৭.৫ শতাংশের পরিবর্তে করপোরেট ট্যাক্স ২৭.৫ শতাংশ করা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি সাবসিডিয়ারির (অঙ্গ প্রতিষ্ঠান) কাছ থেকে মূল (প্যারেন্ট) কোম্পানি যখন লভ্যাংশ নেয় তখন ট্যাক্স দিয়ে বাকি অংশ মুনাফায় যোগ হয়। আবার ওই মূল কোম্পানি যখন সাবসিডিয়ারি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের দেয় তখন তার উপরও ট্যাক্স দিতে হয়। এতে একই পরিমাণ লভ্যাংশ আয়ের উপর দুবার ট্যাক্স দিতে হয়। যা ঠিক নয়। তাই আগামীতে যাতে লভ্যাংশের উপর দুবার কর দিতে না হয় সে লক্ষ্যে রাজস্ব বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।’
  • ১১ কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা
    স্টাফ রিপোর্টার : সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ১১ কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছর ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ সালের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক-বিমা, আর্থিক খাতসহ অন্যান্য খাতের  কোম্পানি রয়েছে। ব্যাংক খাতের মধ্যে রয়েছে, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটডে, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড এবং এক্সিম ব্যাংক লিমটেড। আর্থিক খাতের মধ্যে রয়েছে, বিডি ফিন্যান্স  লিমিটেড, ইসলামিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স । বিমা খাতের তাকাফুল ইসলামী ইনস্যুরেন্স, প্রভাতি লাইফ ইনস্যুরেন্স ও প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স। এছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতের ইবনে সিনা এবং বিবিধ খাতের বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন গত সপ্তাহে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ব্যাংক খাত : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি  শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক  লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই বোনাস লভ্যাংশ। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে  ১টাকা ৯৬ পয়সা। আগামি ২৯ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ৪ মে। ২০১২ সালে ব্যাংকটি ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই ব্যাংক ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমান পিই রেশিও রয়েছে ৮ দশমিক ৯৪। এক্সিম ব্যাংকের  পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই বোনাস। সমাপ্ত বছরে ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা। আগামি  ২৬ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে  ২৭ এপ্রিল। ২০১২ সালে এই ব্যাংকের শেযারহোল্ডারদেরকে ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেষে শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস করেছিল ১ টাকা ৯৮ পয়সা। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ১ দশমিক ৭৭ টাকা। এর শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১৬ দশমিক ২৯ টাকা। আগামি ১৮ মে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ এপ্রিল। ২০১২ সালে এই ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদেরকে ১৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেষে শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ২ টাকা ৭৩ পয়সা। একই বছরে নয় মাসে শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই ব্যাংকটি ২০০৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমান মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও রয়েছে ১২ দশমিক ১৮। বিমা খাত : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি প্রভাতী ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই বোনাস। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮৩ পয়সা। আগামি ২২ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ৪ মে। ২০১২ সালে কোম্পানিটি ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমান পিই রেশিও রয়েছে ১৩ দশমিক ৩। সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই বোনাস লভ্যাংশ। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৩ পয়সা। আগামি ২৪ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ২৯ এপ্রিল। ২০১২ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমান পিই রেশিও রয়েছে  ১২ দশমিক ২৮ পয়েন্ট। এ খাতের  তাকাফুল ইসলামী ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের  পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই বোনাস। সমাপ্ত বছরে ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ২৮ পয়সা। আগামি  ৩১ মে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে  ২৮ এপ্রিল। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বোনাস  লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেয়ার প্রতি আয়  করেছিল ১ টাকা ৭৫ পয়সা। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমান পিই রেশিও রয়েছে ১৩ দশমিক ৩। আর্থিক খাত : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি বিডি ফিন্যান্স  লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ  বোনাস  লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৩ পয়সা। আর কোম্পানির কনসোলিডেট ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা। শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য বা এনএভি হয়েছে ১৪ টাকা ৮৮ পয়সা। আগামি ১৪ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ১২ মে। ২০১২ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস  লভ্যাংশ দিয়েছিল। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এ খাতের কোম্পানি ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ এবং ৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৭৭ পয়সা। আগামি ২৮ মে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ২৮ এপ্রিল। ২০১২ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস  লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেয়ার প্রতি লোকসান  করেছিল ৫৯ পয়সা। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এছাড়া আর্থিক খাতের কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির কনসোলিটেড শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ৬৮ পয়সা। আগামি ২৯ মে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ৩০ এপ্রিল। ২০১২ সালে কোম্পানিটি ৫ শতাংশ নগদ  লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেয়ার প্রতি লোকসান  করেছিল ২৬ পয়সা। ‘বি’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ। আলোচিত বছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে (ইপিএস) ১ টাকা ৯৭ পয়সা। আগামি ২৩ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ এপ্রিল। ২০১২ সালে বিএসসি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস করেছিল ১ টাকা ৭৭ পয়সা। ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস  ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ বোনাস এবং ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪ টাকা ৪৮ পয়সা। আগামি  ৭ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে  ৩০ এপ্রিল। ২০১২ সালেও কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদেরকে ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ ছিল নগদ, বাকি ২০ শতাংশ বোনাস। ওই বছর শেয়ার প্রতি আয় করেছিল ৪ টাকা ১৩ পয়সা।
  • তুং হাই নিটিংয়ের আইপিও আবেদন ১৮ মে থেকে
    সিনিয়র রিপোর্টার : প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেডের টাকা উত্তোলনের সময় নির্ধারণ করেছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আগামি ১৮ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত এই আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুযোগ থাকবে ৩১ মে পর্যন্ত বলে এ তথ্য জানা গেছে। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫১০তম সভায় কোম্পানিটির আইপিও’র অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সভায় কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের তিন কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করার অনুমতি দেয় বিএসইসি। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৩৫ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। ৫০০ শেয়ার দিয়ে লট করা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে এক টাকা ১৫ পয়সা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ বা এনএভি ১৩ টাকা ৭৩ পয়সা। এই কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং সহ ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইমপেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড।
  • খুলনা প্রিন্টিংয়ের আইপিও আবেদন ৪ মে থেকে
    বিশেষ প্রতিনিধি : খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিটির আবেদন শুরু হবে আগামী ৪ মে, রোববার থেকে। বিশেষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং কোম্পানির আইপিওতে আবেদন গ্রহণ শুরু ৪ মে এবং শেষ হবে আগামী মাসের ৮ মে। তবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুযোগ থাকবে ১৭ মে পর্যন্ত। কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে ৪ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ জন্য কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। খুলনা প্রিন্টিং মাস্টার কার্টুন, স্টিকার এবং রাইডার জাতীয় পণ্য উৎপাদন করে। এটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি চলতি মূলধন, ব্যাংকের টার্ম ঋণ এবং আইপিও খাতে খরচ করবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির গত ৪ মার্চ নিয়মিত সভায় কোম্পানিটিকে আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং কোম্পানিকে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪ কোটি শেয়ার বিক্রি করে ৪০ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলনের অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৩০ জুন ২০১৩ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ২ টাকা ৮২ পয়সা এবং এনএভি ছিল ২৪ টাকা ২৬ পয়সা। খুলনা প্রিন্টিংয়ের ২০১৩ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ দশমিক ৮২ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ হয়েছে ২৪ দশমিক ২৬ টাকা। কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে সোনালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
  • আইপিওতে তবুও দুর্নীতি
    পুঁজিবাজারে আইপিওতে আসা কোম্পানিতে একজন বিনিয়োগকারী দুটির বেশি আবেদন করতে পারবে না, এটা সিকিউরিটিজ আইন। নিয়ম অনুসারে একজন বিনিয়োগকারী নিজ নামে একটি (সিঙ্গেল) এবং একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্টসহ দুটি বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দুটি লটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু তা হচ্ছে না। নামে বেনামে হচ্ছে আইপিও আবেদন। নিয়মকে অনুসরণ করেই বিনিয়োগকারীরা শত শত আইপিওতে আবেদন করে আসছেন। এখন তা না হয়ে কুক্ষিগত করে রাখা হচ্ছে। ফার কেমিক্যাল কোম্পানির বেলায় দেখা গেল ভিন্নতা। এ কোম্পানির আইপিও আবেদন জমার ক্ষেত্রে দেখা গেল একজন বিনিয়োগকারী দুয়ের অধিক আবেদন জমা দিচ্ছে।ঢাকার আইসিবি প্রধান অফিস ও পল্টনের আইসিবির লোকাল অফিসে গিয়ে দেখা গেল একজন বিনিয়োগকারী একসাথে ৫০ থেকে ১০০টি বা তারও বেশি আইপিও আবেদন জমা দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, ঢাকার আইসিবিতে বিনিয়োগকারীরা যতো খুশি ততো আবেদন একসাথে জমা দিচ্ছেন। এখানে লক্ষ করা গেল প্রায় সব বিনিয়োগকারীই অধিক সংখ্যায় আবেদন জমা দিচ্ছে। দুটি আবেদন জমা দিতে এসেছে এমন কাউকে এখানে খুঁজে পাওয়া গেল না, অথচ তাদের সবার হাতেই অসংখ্য আবেদনপত্র। এমনকি এখানে একজনকে ৫০০টি আবেদনপত্রও জমা দিতে দেখা গেল। বর্তমান সময়ে নিয়মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এমন সুবিধাভোগী বিনিয়োগকারীরা। তারা নিয়মের মধ্যে থেকেই এ কাজগুলো করে যাছে। তারা একজন বিনিয়োগকারীর নামে দুটি করেই আবেদনপত্র জমা দিচ্ছে। এতে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে না। কিন্তু তারা যা করছে, তাহলো একজন বিনিয়োগকারী তার মা-বাবা, ভাইবোন, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সবার নামে, কখনো কখনো নামে-বেনামে বিও অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন করে। বর্তমান সময়ে এভাবেই চলছে আইপিও বাজার। একজনেই শত শত আইপিওতে আবেদন জমা দিচ্ছেন। এখানে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনের নামে আবেদন করলে সমস্যা নেই। সমস্যা হলো, একজন ব্যক্তি কয়েকশ আবেদন জমা দিচ্ছে কয়েকশ বিনিয়োগকারীর নাম ব্যবহার করে। এখানে লাভবান হচ্ছে মাত্র একজন ব্যক্তি। এখানে ওই বিনিয়োগকারীর মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন; কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে কোনো লাভবান হচ্ছেন তারা। লাভবান হচ্ছে- ‘ক’ নামে একজন মাত্র ব্যক্তি। এমনভাবে অনেক বিনিয়োগকারী এ ধরনে কাজ করছে বলে জানা যায়। এতে করে আইপিও বাজারটা কয়েকজন লোকের হাতে কুক্ষিগত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। যাতে করে প্রকৃত এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যার কারণে আস্তে আস্তে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আইপিও বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। খোকন নামে এক বিনিয়োগকারী জানালেন আমার দুটি বিও অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন যাবৎ কোনো আইপিও বিজয়ী হতে পারিনি। আমার শুধু কষ্ট করে জমা দেয়াটাই সার। আবার আছে ব্যাংকের অনলাইন চার্জ। এভাবে জমা দিতে দিতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এবারই লাস্ট এবার যদি শেয়ার না পাই, তবে আর আইপিওতে আবেদন করব না। আইসিবিতে জমা দিতে আসা এক বিনিয়োগকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি প্রায় তিন শত বিও একাউন্ট খুলে আইপিও ব্যবসা করছি তাতে আমি ভালোই লাভবান হচ্ছি। প্রতিটি কোম্পানিতেই আমি একাধিক শেয়ারে বিজয়ী হই। কাজগুলো আমি একাই করি, যাতে আমাকে বা কাউকে লাভের অংশ দিতে হয় না। তিনি জানালেন, …এ অ্যাকাউন্টগুলো লাভের সমস্ত অংশটুকু তিনি নিজেই ভোগ করে থাকেন। নিয়মকেই অনিয়ম বানিয়ে একশ্রেণীর সুবিধাভোগী বিনিয়োগকারী শত শত আইপিওতে আবেদন করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুযোগের বারোটা বাজিয়ে নিজের আখের গোছাচ্ছে। এতে করে সুযোগ হারাচ্ছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা, অন্যদিকে লাভবান হচ্ছেন সুবিধাভোগী পুঁজিপতিরা। আর সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের পুঁজিবাজার। তাই সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আইপিও কুক্ষিগত করে রাখার বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
পত্রিকা হতে সংগৃহীত খবর
  • রিজার্ভ ভেঙে দেয়া হচ্ছে লভ্যাংশ অনিশ্চিত কোম্পানির ভবিষ্যৎ
    দেশি কোম্পানির চেয়ে রিটার্নের পরিমাণ কম, ঝুঁকিপূর্ণ থাকা ছাড়াও কয়েকটি কোম্পানি রিজার্ভ থেকে মুনাফা দেয়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ারের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। অথচ দাম বাড়ানোর পেছনে কে বা কারা জড়িত। কারা এ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছেন। এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো নজরদারি নেই। আর এ সুযোগে রিজার্ভ ভেঙে লভ্যাংশ দিয়ে শত শত কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে বিদেশিরা। ডিএসই’র সর্বশেষ তথ্যমতে, গত তিন মাসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক ১০ কোম্পানি শেয়ারের দাম সর্বনিু ১২ টাকা থেকে ৬২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে মেরিকো, লিন্ডা বাংলাদেশ, বেটবিসি ও রেকিটবিন কোম্পানি যথাক্রমে ৬২, ৬০, ৬২ ও ৬০ টাকা বেড়েছে। অথচ কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়া কিংবা কমার পেছনে কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করতে, শত শত কোটি টাকা খরচ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) অত্যাধুনিক সার্ভাইল্যান্স সফটওয়্যার রাখা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুজিব উদ্দিন মানবকণ্ঠকে বলেন, প্রকৃতপক্ষে বাজারে বিদেশি কোম্পানির চেয়ে দেশি কোম্পানি ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে। কিন্তু গুজবে কান দেয়ায় অতিলোভে বিনিয়োগকারীরা বিদেশি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন। ফলে ডে ট্রেডাররা কিছু লাভবান হলেও। দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগকারীরা লাভ পাবেন না। তিনি বলেন, গুজব ছড়িয়ে বাজারে কারসাজির সঙ্গে কারা জড়িত রয়েছেন। বিএসইসির ইচ্ছা থাকলে তাদের বিচার হতো। তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতায় কারজাসাজির সঙ্গে জড়িতরা পার পেয়ে যাচ্ছে।বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পিই রেশিও ১৫ শতাংশের চেয়ে কম এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিমুক্ত। অথচ বহুজাতিক কোম্পানির পিই রেশিও ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে বাজার বিশ্লেষক আবু আহম্মেদ বলেন, বহুজাতিক বা দেশীয় কোম্পানি হোক, যে কোম্পানির পিই রেশিও যত কম হবে, সে কোম্পানি ততই বিনিয়োগ-উপযোগী।এদিকে সম্প্রতি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর চোখধাঁধানো লভ্যাংশে মরীচিকা সৃষ্টি হয়েছে পুঁজিবাজারে। আর সে ফাঁদে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বছর শেষে কয়েকশ’ গুণ লভ্যাংশ দিয়ে বাড়ানো হচ্ছে শেয়ারের দাম। বড় অঙ্কের লভ্যাংশ দিলেও বিনিয়োগকারীরা শেয়ারপ্রতি রিটার্ন পাচ্ছেন সামান্য। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পরিসংখ্যানে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।ডিএসই’র তথ্যমতে, বাংলাদেশের প্রথম সারির মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোন সর্বশেষ ১৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এ থেকে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারপ্রতি রিটার্ন পান মাত্র ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। অথচ দেশীয় শিল্পের মধ্যে বছর শেষে রিটার্ন পাওয়ার হার বহুজাতিক কোম্পানির তুলনায় অনেক বেশি। দেখা গেছে, এনসিসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বছর শেষে শেয়ারপ্রতি রিটার্ন পাওয়ার হার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। যদিও সর্বশেষ এ ফান্ডটি নগদ লভ্যাংশ দেয় মাত্র ১০ শতাংশ।অপর দিকে বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ না করে, দেশ থেকে নিজেদের দেশে টাকা নিয়ে যাচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি বা বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা। তারা এত দ্রুত ব্যবসা এমনভাবে কমাচ্ছে যে, এখন কোম্পানির বার্ষিক আয় ছাড়াও কোম্পানির রিজার্ভ থেকে শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ দিচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ কোম্পানিগুলো মুনাফা থেকে রিজার্ভ রাখে প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের জন্য বা আপদকালীন বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রদানে। কিন্তু বাংলাদেশে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর এমন কোনো সমস্যা হয়নি যে, তাদের রিজার্ভ ভেঙে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে হবে; বরং এটা বলা যায়, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী নয়। এছাড়া এসব বহুজাতিক কোম্পানির বেশি শেয়ার স্পন্সর বা ডিরেক্টরদের হাতে। এতে কয়েকশ’ গুণ লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও মূলত লাভবান হচ্ছেন তারা নিজেরাই। পাশাপাশি বিদেশি উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত বিনিয়োগের আয়ের কর দেয়ার বিধান না থাকায় প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোন তাদের রিজার্ভ থেকে অতিরিক্ত লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১০ সালে গ্রামীণফোনের শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৭ দশমিক ৯৩ টাকা আর শেয়ার হোল্ডারদের শেয়ারপ্রতি লভ্যাংশ দেয় ১২ টাকা। সে হিসাবে তাদের রিজার্ভ থেকে দিতে হয় ৪ দশমিক ০৭ টাকা। আর ২০১১ সালে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১৩ দশমিক ৯৯ টাকা। অথচ সে সময় তারা শেয়ারপ্রতি লভ্যাংশ দেয় ২০ দশমিক ৫০ টাকা, যা প্রদান করতে তাদের রিজার্ভ থেকে খরচ করতে হয় শেয়ারপ্রতি ৬ দশমিক ৫১ টাকা।একই চিত্র পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরেক বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকোর। এ প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে দেখা গেছে, ২০১২ সালে শেয়ারপ্রতি আয় হয় ২৭ দশমিক ৫৩ টাকা। অথচ সে সময় কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লভ্যাংশ দেয় ১৫০ শতাংশ, যা পরিশোধ করতে রিজার্ভ থেকে খরচ হয় শেয়ারপ্রতি ১২২ দশমিক ৪৭ টাকা। আর তালিকাভুক্ত হাইডেলবার্গ সিমেন্ট সর্বশেষ যে ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ ঘোষণা করে, তার জন্য তাদের রিজার্ভ থেকে ভাঙতে হবে শেয়ারপ্রতি ১১ দশমিক ৯১ টাকা। সুত্রঃ মানব কণ্ঠ
  • ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেনের ৮% মেঘনা পেট্রোলিয়ামের
    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের প্রায় ৮ শতাংশ ছিল বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের। সপ্তাহজুড়ে এর ১৩৯ কোটি ৪৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এ সময়ে এর দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ।বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার এ শেয়ারের দর বাড়ে ৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বা ৯ টাকা ৩০ পয়সা। দিনভর দর ৩০২ টাকা থেকে ৩১৪ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। সর্বশেষ লেনদেন হয় ৩১৩ টাকায়, যা দিন শেষে দাঁড়ায় ৩১০ টাকা ৮০ পয়সায়। গত এক মাসে এর সর্বনিম্ন দর ছিল ২৭২ টাকা ও সর্বোচ্চ ৩১০ টাকা ৮০ পয়সা।এদিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণে জানা যায়, চলতি হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ৪০ শতাংশ। ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১০৯ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১৩ টাকা ৪১ পয়সা। তবে এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে মুনাফা হয় ৭৮ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ইপিএস ৯ টাকা ৫৭ পয়সা।কোম্পানিটি ২০১৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৭০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছে। এ হিসাব বছরে এর কর-পরবর্তী নেট মুনাফা হয়েছে ১৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২৫ টাকা ৬১ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) ৭০ টাকা ৫৪ পয়সা।২০১২ সালের জন্য কোম্পানিটি ৪৫ শতাংশ নগদ ও ৩০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। ওই হিসাব বছর এর ইপিএস ছিল ২২ টাকা ৫ পয়সা, এনএভি ৫৭ টাকা ১২ পয়সা ও কর-পরবর্তী মুনাফা ১৩৯ কোটি ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা।২০০৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৪১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৭৮ হাজার ২৮০টি; যার মধ্যে সরকার ৫৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে ১৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। প্রতিটি শেয়ারের অভিহত মূল্য ১০ টাকা ও ১০০টিতে মার্কেট লট। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে এর মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৬ দশমিক ৪। সুত্রঃ বনিক বার্তা
  • বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে পুঁজিবাজার ভালো হতে পারে’
    পুঁজিবাজারে মন্দা পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক দায়ী উল্লেখ করে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি তানজিল চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। বাজার ভালো করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিবাচক মনোভাবই যথেষ্ট। গতকাল সোনারগাঁও হোটেলে বিএমবিএ’র নবম বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিএমবিএ’র সেক্রেটারি জেনারেল মশিউর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মুস্তফা কামাল, সদস্য মনিরুজ্জামান, মাহাবুব হোসেন মজুমদারসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।তানজিল চৌধুরী বলেন, বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। তবে এ ধারা বজায় রাখার জন্য যে পরিমাণ লেনদেন দরকার তা হচ্ছে না। লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেই বাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে। তিনি বলেন, বিএসইসির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রুলস রেগুলেশন পরিবর্তন করা হয়েছে। যার প্রতিফলন এ মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে না। তবে আগামীতে এর ইতিবাচক প্রতিফলন আমরা দেখতে পাব।বিএমবিএ’র সভাপতি বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া দরকার। যার প্রতিফলন এ মুহূর্তে বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আমরা আশা করছি আগামী অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের ওপর গুরুত্ব দেবে সরকার।বিএমবিএ’র সদস্য ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা রোববার এনবিআরের সঙ্গে আলোচনায় বসব। সঞ্চিতির ওপর বিদ্যমান কর প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে লভ্যাংশের ওপর থেকে দ্বৈত কর প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানানো হবে।’তিনি বলেন, প্রভিশনিংয়ের (সঞ্চিতি) ওপর ট্যাক্স (কর) দেয়া বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর জন্য বড় সমস্যা। এটি যেহেতু আয় নয় তাই প্রভিশনিংয়ের ওপর আরোপিত ট্যাক্স মওকুফ করা দরকার। তবে প্রভিশনিং আয় হিসেবে গণ্য হলে তবেই ট্যাক্স দেয়া যেতে পারে। এমতাবস্থায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধানে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশের পরিবর্তে কর্পোরেট ট্যাক্স ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা দরকার। সুত্রঃ মানব কণ্ঠ
  • এক মাসে গত বছরের দ্বিগুণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি
    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ গত অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ছিল বলে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর জানিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে এক হাজার ২৬২ কোটি ১৭ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা গত পুরো অর্থবছরের বিক্রির তুলনায় দ্বিগুণ। একক মাস হিসাবে চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। খবর বিডিনিউজজাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০০৯ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। তুলনামূলকভাবে সুদের হার বেশি হওয়ায় সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়ছে বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ কমছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্তি বেশি হওয়ায় ব্যাংক ঋণের ওপর চাপ কমেছে। এবার ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে গতবারের মতো এবারো অর্থবছরের শেষদিকে এসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ বাড়বে বলে আশঙ্কা আজিজুল ইসলামের।চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি মেটাতে জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পগুলো থেকে ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা ধার নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। এরমধ্যে প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ২৪৬ কোটি টাকা, যা বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বেশি। আর গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে এর পরিমাণ ১২ গুণ এবং পুরো সময়ের চেয়ে আট গুণ বেশি। কেবল ফেব্রুয়ারি মাসেই গত অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আর গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় বিক্রি বেড়েছে সাত গুণেরও বেশি। ২০১২-১৩ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের প্রকৃত বিক্রির পরিমাণ ছিল ৭৭২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরের প্রতি মাসেই এই বিক্রির পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি বা বেশি ছিল। বিশেষ করে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে এর পরিমাণ এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২০১০-১১ অর্থবছরে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে দুই হাজার ৫৭ কোটি টাকায় নেমে আসে। ২০১১-১২ অর্থবছরে তা আরো কমে ৪৭৯ কোটি টাকা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মোট পরিমাণ থেকে আগের বিক্রীত সঞ্চয়পত্রের নগদায়নের পরিমাণ বাদ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশকে সঞ্চয়পত্রের প্রকৃত বিক্রি বলা হয়। নগদায়নের ক্ষেত্রে গ্রাহককে সুদসহ আসল পরিশোধ করা হয়।আজিজুল ইসলাম বলেন, সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বৃদ্ধি ভালো দিক। সরকার এই খাতের টাকা উন্নয়ন কাজে খরচ করছে। গত দুই-তিন বছরের মতো ব্যাংক ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করতে হবে না। তবে সরকারের রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় অর্থবছরের শেষদিকে ব্যাংক ঋণ বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বছরের শেষদিকে সরকারের এডিপি বাস্তবায়নের গতি বেড়ে যায়। খরচ মেটাতে বাধ্য হয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয় সরকারকে। একথা ঠিক যে, সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে বেশি টাকা আসছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় বছরের শেষদিকে এসে সরকারকে ঠিকই ব্যাংকের ওপর নির্ভর হতে হবে।সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সহিংস রাজনীতির কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের গতি বেশ মন্থর ছিল। সে কারণে সরকারের খরচও কম ছিল। যে অর্থের প্রয়োজন ছিল তার একটি বড় অংশ সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়ায় সরকারকে আর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে খুব বেশি ঋণ নিতে হয়নি। ঝুঁকিমুক্ত বলেই মানুষ এখন সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো আমানতের সুদের হার কমিয়ে আনায় এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দা পরিস্থিতি থাকায় ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বেড়েছে। মানুষ এখন একটু বেশি মুনাফার আশায় নিরাপদ বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্র কিনছে। চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৩ হাজার ৮০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংক্রন্ত প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সীমিত রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ব্যাংক বহির্ভূত উৎস (জাতীয় সঞ্চয়পত্র) হতে প্রাপ্তি বেশি হওয়ায় ব্যাংক ঋণের ওপর চাপ হ্রাস পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে যেসব সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, তার ৮০ শতাংশই পরিবার সঞ্চয়পত্র, ১৫ শতাংশ পেনশনার সঞ্চয়পত্র এবং বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় এর বিক্রি বাড়ছে বলে মনে করছেন আজিজুল ইসলাম। বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ শতাংশের কাছাকাছি। ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার যেখানে ১০ শতাংশের নিচে। শুধু নারীদের জন্য এই পরিবার সঞ্চয়পত্র চালু হয় ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকার আমলে। এরপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তা বন্ধ করে দিলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় চালু করা হয়। বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়াও প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, ছয় মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়।অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ৬২৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, আগস্টে ৬৯১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৭৮০ কোটি ৭০ লাখ টাকা, অক্টোবরে ৬০১ কোটি ৪১ লাখ টাকা ছিল। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৯০৯ কোটি ১৮ লাখ এবং ৯৫৭ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ১২৬ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে তা আরো বেড়ে এক হাজার ২৪৬ কোটি হয়েছে। গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ২৩ হাজার কোটি টাকা ধার করবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল। অর্থবছর শেষে তা সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেয়ার প্রভাব পড়ে বেসরকারি বিনিয়োগে। সেজন্য সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়ে যাওয়ায় বছরজুড়েই 'উষ্মা' প্রকাশ করে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এবার এ নিয়ে তেমন সমালোচনা নেই। ব্যাংকগুলোতে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার মতো 'অলস' অর্থ পড়ে আছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৬ শতাংশের কাছাকাছি। চলতি জানুয়ারিতে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে রাজস্ব আদায় ১ শতাংশ কমেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ২২ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করেছে এনবিআর। সুত্রঃ  যায়যায় দিন
  • ৭৯ হাজার কোটি টাকার নয়া এডিপি আসছে
    আগামী অর্থবছরের (২০১৪-১৫) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) হবে ৭৯ হাজার ২০ কোটি টাকার। নয়া বছরের এডিপিতে স্থানীয় ও বিদেশি অর্থের পরিমাণ কী হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আসন্ন বাজেট পরনির্ভরশীল হবে না।এ অবস্থার মধ্যে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে নয়া অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ।হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের (২০১৩-১৪) বাজেটে মূল এডিপির আকার ৬৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। নানা বাস্তবতায় পরে তা সংশোধন করে ৬০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। সে হিসাবে সংশোধিত এডিপির তুলনায় নয়া বাজেটের এডিপি বরাদ্দ বাড়বে ১৯ হাজার ২০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়েই বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।এ প্রসঙ্গে অর্থনীতি প্রতিদিনের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে চলতি বছরের এডিপি বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্তাব্যক্তি। তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সরকারের সংশোধিত এডিপিরও বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৭ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কম।প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত অর্থবছরের (২০১২-১৩) প্রথম নয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৯ শতাংশ। অবশ্য এ চিত্রের জন্য হরতাল-অবরোধসহ সংঘাতের রাজনীতিকে সামনে টেনে এনেছেন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা। এর পরও অর্থবছর শেষে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।অর্থবছরের বাকি তিন মাসে ৫৩ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়নের আশা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।তিনি বলেন, বাস্তবায়ন বেশি দেখাতে গিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ করলে বা অর্থ ছাড় করলে সেই কাজের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা যেমন নিশ্চিত হবে না, তেমনি কাজের মানও ভালো হবে না। শুধু শুধু বাস্তবায়নের হার বাড়ানোর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন আজিজুল ইসলাম।এডিপি বাস্তবায়নের ধীরগতি প্রসঙ্গে আজিজুল ইসলাম আরো বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের ঢিলেমি, উন্নয়ন সহযোগীদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রকল্প পরিচালকদের অদক্ষতা ও অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে ভাটা পড়েছে।এর বাইরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নজরদারিও কমে গেছে। সেই সঙ্গে এডিপি বাস্তবায়নে সরকারের শীর্ষপর্যায়ের চাপও তেমন নেই বলে মনে করেন সাবেক এই উপদেষ্টা।এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম বলেন, কাজের গতি ধীর বলা ঠিক হবে না। শতাংশ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় বাস্তবায়ন কম হলেও টাকার অঙ্কে কিন্তু বেশি হয়েছে।গত বছরের শেষের দিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ৬০ হাজার কোটি টাকার এডিপির ৪৭ শতাংশ বাস্তবায়ন মোটেই খারাপ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।নতুন বাজেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেক্সিকোতে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আসন্ন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট পরনির্ভরশীল হবে না। তিনি জানিয়েছেন, দুই লাখ কোটি টাকারও বেশি অঙ্কের বাজেটে বিদেশি আনুদান থাকবে মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ।এদিকে চলতি বছরের সংশোধিত এডিপির ৩৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা স্থানীয়ভাবে জোগান দেওয়া হচ্ছে। আর বাকি ২১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সংস্থান হচ্ছে প্রকল্প সাহায্য থেকে। সুত্রঃ অর্থনীতি প্রতিদিন
  • রফতানি খাতে নগদ সহায়তার ৬৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন
    রফতানি খাতে ভর্তুকি হিসেবে নগদ সহায়তার চতুর্থ কিস্তির ৬৪৮ কোটি টাকা ছাড় করার অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অগ্রাধিকার বিবেচনায় ১৪টি রফতানি খাতে চলতি অর্থবছরের চতুর্থ মেয়াদে (এপ্রিল-জুন) এ অর্থ ছাড় করা হবে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকের আবেদনের ভিত্তিতে এখান থেকে নগদ সহায়তা প্রদান করবে।রফতানি খাত চাঙ্গা করতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ রেখেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় শেষ মেয়াদে (এপ্রিল থেকে জুন) চতুর্থ কিস্তির অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হলো। ১৪ খাতে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা প্রদানের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া বস্ত্র খাতের নতুন পণ্য নতুন বাজার সম্প্রসারণ সহায়তা (আমেরিকা, কানাডা ও ইইউ ব্যতীত) হিসাবে ২ শতাংশ হারে প্রদানের সিদ্ধান্ত রয়েছে।নিয়ম অনুযায়ী নগদ সহায়তার আবেদন করা হয়েছে কি-না সিজিএ বিষয়টি খতিয়ে দেখে। এখন নগদ সহায়তার চতুর্থ কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে প্রধান হিসাবরক্ষক কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশি বস্ত্রসামগ্রী, হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ, চামড়াজাত দ্রব্য, পাটজাত দ্রব্য, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, হোগলা, খড় ও আখের ছোবড়া দিয়ে তৈরি পণ্য, পেট বোতল-ফ্লেক্স, হাড়ের গুঁড়া, আলু, জাহাজ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং হালাল মাংসের রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তা বা ভর্তুকির অর্থ প্রদানে ৬৪৮ কোটি টাকা অর্থ ছাড় করা হলো।এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পাটজাত দ্রব্যাদি খাতে নগদ সহায়তার জন্য বরাদ্দ আছে ৩৭৮ কোটি টাকা। এ থেকে চতুর্থ কিস্তিতে ৯৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর অন্যান্য পণ্যের জন্য শেষ কিস্তিতে ৫৫৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়।জানা গেছে, আনুপাতিক হারে নগদ সহায়তা ও ভর্তুকি সুবিধা পাচ্ছে এমন খাতগুলো হচ্ছে_ মধ্যে রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা ৫ শতাংশ, হোগলা, খড়, আখের ছোবড়া দিয়ে হাতের তৈরি পণ্য রফতানি খাতে নগদ সহায়তা ১৫-২০ শতাংশ, কৃষিপণ্য (শাকসবজি-ফলমূল) ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রফতানি খাতে রফতানি ভর্তুকি ২০ শতাংশ, হাড়ের গুঁড়া রফতানি খাতে নগদ সহায়তা ১৫ শতাংশ, হালকা প্রকৌশল পণ্য রফতানি খাতে ভর্তুকি ১০ শতাংশ, শতভাগ হালাল মাংস রফতানিতে ভর্তুকি ২০ শতাংশ, হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রফতানি খাতে নগদ সহায়তা ১০ শতাংশ, চামড়াজাত দ্রব্যাদি রফতানি খাতে নগদ সহায়তা ১৫ শতাংশ, জাহাজ রফতানির বিপরীতে রফতানি ভর্তুকি ৫ শতাংশ, বস্ত্র খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা (প্রচলিত নিয়মের) ৫ শতাংশ, আলু রফতানি খাতে নগদ সহায়তা ২০ শতাংশ, পেট বোতল-ফ্লেক্স রফতানির বিপরীতে রফতানি ভর্তুকি ১০ শতাংশ এবং পাটজাত দ্রব্যাদি রফতানি খাতে নগদ ভর্তুকি ১০ শতাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত আছে। সুত্রঃ সমকাল
  • রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি মার্চে
    চলতি অর্থবছরের মার্চ মাসের জন্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬৫ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। কিন্তু এর বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে এ সময়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে ২৪১ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের পণ্য। ইপিবির হিসাবেই যা মার্চ মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯.২৫ শতাংশ কম। মার্চ মাসে মূলত প্রধান দুই রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি মন্দার কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।ইপিবি সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে মার্চ পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে ২২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দশমিক ৮০ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরের চেয়ে ১২.৮৮ শতাংশ বেশি। এ সময়ের মধ্যে রপ্তানি হওয়া পণ্যের বেশির ভাগ গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৪১৬ কোটি ডলারের পণ্য। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জার্মানিতে রপ্তানি হয়েছে ৩৫৪ কোটি ডলারের পণ্য। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে ২১৩ কোটি ডলারের পণ্য।রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা মূলত গত ফেব্রুয়ারি থেকে কিছুটা থমকে গেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩.৭৬ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে। অথচ এর আগের জানুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২.৮৩ শতাংশ, ডিসেম্বর মাসে ৪.০৬ শতাংশ এবং নভেম্বর মাসে ৬.০৫ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছে।রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় খাত পোশাকশিল্প ৯ মাসের বিচারে এখন পর্যন্ত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরে রেখেছে। মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরের ৯ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ১৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১৫.১৯ শতাংশ। তবে মার্চ মাসে তৈরি পোশাক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে। মার্চে পোশাক খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি কমে যাওয়ায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ২৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেছেন রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, 'পোশাকশিল্পে এখন কঠিন সময় চলছে। বিদেশি ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া যেসব কারখানায় পরিদর্শন এখনো হয়নি তাদের অর্ডার পেতে সমস্যা হবে। এসব কিছু রপ্তানিতে প্রভাব ফেলবে।'অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের পরিদর্শন আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। পরিদর্শন শেষে রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে বাংলাদেশের পোশাক খাত আসলে কোন দিকে যাচ্ছে।'তৈরি পোশাক খাতের পরেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি খাত পাট ও পাটজাত পণ্য। কিন্তু এই পণ্যটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৪১ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬১২ মিলিয়ন ডলার। অথচ গত অর্থবছরেও একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৭৬৫ মিলিয়ন ডলার।রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন ও অর্থ) মাজহারুল হক বলেন, 'আমাদের প্রধান পাটের বাজার থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক সংকট চলছে। একই অবস্থা সিরিয়া, ইরাক, ইরান, মিসর ও লিবিয়ায়। আবার চাহিদা কিছু কমে যাওয়ার পাশাপাশি টাকার বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়নের কারণে ভারতে পাট ও পাটজাত পণ্য কম রপ্তানি হয়েছে। এ ছাড়া সুদানে চাহিদা থাকলেও তাদের বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের কারণে পাট নিতে পারছে না। এ কারণে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পাটজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে না।'পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯.৬২ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে। পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ৫০.৭২ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্য ৮.২৮ শতাংশ, কটন প্রোডাক্ট ১২.৪৮ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ৯.৭৭ শতাংশ ও কম্পিউটার সার্ভিসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ৩২ শতাংশ রপ্তানি কমেছে। সুত্রঃ কালের কণ্ঠ
  • লোকসানে ডুবছে বিমান
    একের পর এক নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ আসছে। বেড়েছে গন্তব্য এবং যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতা। তার পরও লোকসানের ধারা থেকে বের হতে পারছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের লোকসানই গত অর্থবছরের মোট লোকসানকে ছাড়িয়ে গেছে।বিমান থেকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে (২০১২-১৩) লোকসান ছিল ১৯৩ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২২২ কোটি টাকা। বাকি ছয় মাসেও লোকসানের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।বিমানের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলছেন, সঠিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার অভাব এবং দুর্নীতি ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে অনেকগুলো জ্বালানিসাশ্রয়ী উড়োজাহাজ এনেও লোকসান সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।অথচ বিমানকে লাভজনক করার লক্ষ্যে গত বছরের মার্চে উচ্চ বেতনে যুক্তরাজ্যের নাগরিক কেভিন স্টিলকে (৬৩) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দেন, দুই বছরের মধ্যে বিমান লাভে যাবে। চলতি অর্থবছরে লাভ-লোকসান সমান সমান বা খুবই কম লোকসান হবে। পরের বছর লাভে যাবে। কিন্তু এক বছরের মাথায় বিমানকে লোকসানের পুরোনো ধারায় রেখে তিনি পদত্যাগ করলেন। গতকাল শনিবার তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছেন। বিমানের ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পেয়েছেন পরিচালক (যাত্রীসেবা) এ এম মোসাদ্দিক হোসেন। তিনি এর আগেও কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত ছিলেন।বিমানের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিমান বহরে ছয়টি বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত হওয়ার পর চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই ’১৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ’১৪) বিমানের যাত্রী পরিবহনক্ষমতা কমে গেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরের ওই আট মাসে বিমান যাত্রী পরিবহন করে ১১ লাখ ৭৭ হাজার। আর, চলতি অর্থবছরে একই সময়ে এ সংখ্যা কমে হয়েছে সাড়ে নয় লাখ।এ ছাড়া, গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসে টিকিট বিক্রি থেকে বিমানের রাজস্ব আয় হয়েছিল দুই হাজার ২৮২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে অঙ্কটা কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৮৬৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। রাজস্ব আয় কমেছে ৪১৪ কোটি টাকা। অথচ এ সময়ে এ খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৬১০ কোটি টাকা।বিমান হিসাব শাখা থেকে জানা যায়, ১৯৯০ সালের পর বিমানের লোকসানের প্রবণতা বেড়েছে। ১৯৯৫-৯৬ সাল থেকে গত ১৮ বছরে বিমান লাভের মুখ দেখেছে মাত্র চার বছর। সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরে লাভ করেছিল বিমান। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিমানের সাবেক প্রধান জামাল উদ্দিন আহমেদকে চেয়ারম্যান করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। এরপর আবার লোকসানে যায় বিমান। গত চার অর্থবছরে যথাক্রমে ৪৬ কোটি, ১৯৯ কোটি, ৬০৫ ও ১৯৩ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রথম আলোকে বলেন, এখন বিমান বহরে আধুনিক উড়োজাহাজ যেমন বেড়েছে, এর গন্তব্যের সংখ্যাও বেড়েছে। তাই বিমানের লোকসান বাড়ার কথা নয়, বরং আগের চেয়ে কমে আসার কথা। এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি আজ বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসবেন বলে জানান।সর্বত্র পরিকল্পনাহীনতা: দুই দশক ধরে বিমানের কর্তাব্যক্তিরা বলে আসছিলেন, উড়োজাহাজ সংকট ও বহরে থাকা দীর্ঘদিনের পুরোনো উড়োজাহাজের অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের কারণে লোকসান হচ্ছে। কিন্তু এখন পুরোনো উড়োজাহাজ (ডিসি-১০ ও এফ-২৮) বাদ দেওয়া হয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ রয়েছে বহরে। গত বছর বিমান প্রায় ১৬ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। চলতি বছর এসে যাত্রী পরিবহনক্ষমতা বেড়েছে আরও প্রায় পাঁচ লাখ।তার পরও কেন লোকসান দিতে হচ্ছে? বিমানের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানায়, এতগুলো আধুনিক উড়োজাহাজের যথোপযুক্ত ব্যবহার, এর জন্য বৈমানিকসহ ক্রু পরিকল্পনা কী হবে এবং প্রতিযোগিতার বাজারে যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে কী ধরনের বিপণন কার্যক্রম চালানো হবে, এসবের জন্য কার্যকর কোনো পরিকল্পনা বিমান নিতে পারেনি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের একজন পরিচালক বলেন, এখন বহরে নতুন কেনা চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, মিসর থেকে ভাড়া করা দুটি ৭৭৭-২০০ইআর, দুটি এয়ারবাস-৩১০, দুটি বোয়িং ৭৩৭সহ আটটি সুপরিসর আধুনিক উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে বোয়িং ৭৭৭ অনেক দূরপাল্লার গন্তব্যে বিরতিহীন ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী। এসব উড়োজাহাজ দিয়ে কম দূরত্বে ফ্লাইট পরিচালনা করে পোষাবে না। ওই কর্মকর্তার মতে, মিসর থেকে বাড়তি দুটি বোয়িং ৭৭৭ ভাড়া না করে মাঝারি আকারের কয়েকটি উড়োজাহাজ বেশি দরকার ছিল। কারণ, কলকাতা, দিল্লি, কাঠমান্ডু, ইয়াঙ্গুন, ব্যাংকক, হংকং, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুরের মতো অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বের গন্তব্যে মাঝারি আকারের উড়োজাহাজ প্রয়োজন। তা ছাড়া, এ ধরনের দূরত্বের মধ্যে শিগগিরই শ্রীলঙ্কার কলম্বো, মালদ্বীপের মালে ও চীনের গুয়াংঝুতে ফ্লাইট চালুর কথা বলছে বিমান।বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে যুক্ত ছিলেন, বিমান মন্ত্রণালয়ের এমন একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি জানান, বোয়িং কোম্পানি একটি বাণিজ্যিক পরিকল্পনা করে দিয়েছিল। কিন্তু পরে সেটা আর অনুসরণ করা হয়নি। কোন বিবেচনায় হংকং ফ্লাইট চালু করা হলো, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। কারণ, বাংলাদেশ থেকে হংকংয়ের ভিসা পাওয়া কঠিন ব্যাপার। এখানে তাদের কোনো ভিসা কেন্দ্র নেই। ড্রাগন এয়ারের টিকিট কিনলে তারা পাসপোর্টসহ কাগজপত্র হংকং পাঠিয়ে ভিসার ব্যবস্থা করে দেয়। এই অবস্থায় বিমান কীভাবে এ গন্তব্যে যাত্রী পাবে?ওই কর্মকর্তা বলেন, পাঁচ-ছয় বছর আগে কাতার এয়ারওয়েজ যখন ঢাকা-দোহা ফ্লাইট শুরু করে, তখন তাদের সপ্তাহে তিন দিন ফ্লাইট ছিল। এখন তারা প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট চালায়। আর বিমানের রয়েছে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট। এ গন্তব্যে বাংলাদেশি শ্রমিকেরাই মূল যাত্রী। তাঁরা বাংলাদেশ বিমানে আসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু লাভজনক এ গন্তব্যে ফ্লাইট সংখ্যা না বাড়িয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ হংকংয়ের মতো লোকসানি গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করেছে।বিমানের গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বোয়িং ৭৭৭ চালানোর মতো এখন বিমানের উপযোগী গন্তব্য রয়েছে লন্ডন, রোম ও ফ্রাঙ্কফুর্ট। প্রথমত, এ কয়টির জন্য এতগুলো উড়োজাহাজ দরকার পড়ছে না। আবার ইউরোপের গন্তব্যে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ দিয়ে পরিচালিত ফ্লাইটে যাত্রীদের আকৃষ্ট করার জন্য কোনো তৎপরতা নেই। বর্তমানে ঢাকা-লন্ডন গন্তব্যে একমাত্র বিরতিহীন সরাসরি ফ্লাইট আছে বাংলাদেশ বিমানের, তা-ও নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ দিয়ে পরিচালিত। কিন্তু বিমান যাত্রীসেবার মান ঠিক রাখতে না পারায় অভিজাত শ্রেণীর (বিজনেস ক্লাস) যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। অথচ বিজনেস ক্লাস পুরো জাহাজের চার ভাগের এক ভাগ জায়গা নেয় আর রাজস্ব দেয় তিন ভাগের দুই ভাগ।দীর্ঘদিন লোকসানের কারণে ২০০৬ সালে বিমান কর্তৃপক্ষ জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট, জাপানের নারিতা, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারসহ আটটি গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। এসব ফ্লাইট আবার চালু করা হচ্ছে ব্যবসায়িক সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই। ফ্রাঙ্কফুর্ট ফ্লাইট চালু করা হয় গত ৩১ মার্চ। ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়েও ৪১৯ আসনের উড়োজাহাজের প্রথম ফ্লাইটে বিক্রি হয় মাত্র ২৯টি টিকিট। আর ফিরতি ফ্লাইটে টিকিট বিক্রি হয় ৫৯টি। ৪ এপ্রিল দ্বিতীয় ফ্লাইটে মাত্র ১৬ জন যাত্রী ছিল। একইভাবে সদ্য চালু করা ইয়াঙ্গুন, দিল্লি, ম্যানচেস্টার ফ্লাইটেও পর্যাপ্ত যাত্রী নেই।জানতে চাইলে বিমানের পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও রোমে প্রত্যাশিত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না ঠিক; তবে লন্ডন, জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম ও কুয়ালালামপুর গন্তব্যে বেশ যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ারস, অনলাইনে টিকিট বিক্রিসহ কিছু কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আগামী মে মাসে আরও কিছু সফটওয়্যার চালু ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচারের উদ্যোগসহ কিছু কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। জুলাই-আগস্ট নাগাদ তার ফল পাওয়া যাবে।এদিকে নিউইয়র্ক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আরও দুটি বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ বিদেশি বৈমানিক, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ (ওয়েট লিজ) ভাড়া করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ক্ষেত্রেও ব্যবসায়িক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি বলে জানা গেছে।গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালে ১০টি নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ কেনার জন্য মার্কিন বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে বিমান। চুক্তি অনুযায়ী, এরই মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭ এসেছে। আগামী বছরের শেষের দিকে বিমানের বহরে যুক্ত হবে দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০। এ ছাড়া, চারটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।এসব উড়োজাহাজের কোনটি কোন গন্তব্যে ব্যবহার করা হবে, তার জনবলকাঠামো বা পরিকল্পনা কী হবে, তারও কোনো কর্মপরিকল্পনার কথা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানাতে পারেননি। উল্টো সম্পূর্ণ আমলানির্ভর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে কেন্দ্র করে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই গোষ্ঠীর দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির নানা তৎপরতায় বৈমানিকদের নিয়োগ, বদলি, অবসর নিয়ে চলছে স্বেচ্ছাচারিতা। নতুন নতুন উড়োজাহাজ বহরে যোগ হলেও সময়মতো বৈমানিক নিয়োগ, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ক্যাডেট পাইলটদের বসিয়ে রাখা এবং সরকার-নির্ধারিত অবসরের বয়সসীমা উপেক্ষা করে অভিজ্ঞ পাইলটদের অবসরে পাঠিয়ে বিদেশ থেকে আরও বেশি বয়স্ক বৈমানিক আনা হচ্ছে দ্বিগুণ বেতনে।বৈমানিকদের নিয়ে আত্মঘাতী কারসাজি: বিমানের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানে এমনিতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বৈমানিক নেই। নতুন চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর আসার পর বৈমানিকের চাহিদা ও সংকট আরও বেড়েছে।বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটির জন্য সাত সেট করে বর্তমানে বহরের ছয়টি বোয়িং ৭৭৭-এর জন্য অন্তত ৪২ সেট বৈমানিক দরকার। একজন ক্যাপ্টেন ও একজন কো-পাইলট বা ফার্স্ট অফিসার মিলে একটি সেট। অর্থাৎ ছয়টি বোয়িং-৭৭৭-এর জন্য ৮৪ জন বৈমানিক দরকার।অবশ্য বিমানের ফ্লাইট অপারেশন শাখার রক্ষণশীল হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটির জন্য ছয় সেট ধরে এখন মোট ৩৬ সেট বা ৭২ জন বৈমানিক দরকার। কিন্তু আছেন মাত্র ৪৭ জন। সামনে আরও উড়োজাহাজ আসবে। চাহিদাও বাড়বে।ফ্লাইট পরিচালন শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন উড়োজাহাজ কখন কোনটা আসবে, সেটা ২০০৮ সালেই নির্ধারিত। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার যাওয়ার পর নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আগে থেকে এ জন্য যথাযথ ক্রু পরিকল্পনা করতে পারেনি, বরং এ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত বা সংশ্ল্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের প্রিয়ভাজন ব্যক্তি হিসেবে দাপট খাটিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেন। এ কারণে অনেক অভিজ্ঞ বৈমানিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিমানে নানা বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়ে গত পাঁচ থেকে সাত বছরে অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি বৈমানিক কাতার এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসসহ বিভিন্ন বিদেশি বিমান সংস্থায় চলে গেছেন।বাংলাদেশ সরকার অবসরে যাওয়ার বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৫৯ বছর করেছে। আর শ্রম আইন অনুযায়ী, বৈমানিকদের বয়সসীমা ৬০ বছর করা হয়েছে। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। অথচ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অনেক আগে বৈমানিকদের চাকরির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর করেছে। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তানসহ অনেক দেশেই এই বয়সসীমা কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বৈমানিকদের ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বিমান কর্তৃপক্ষ তার নিজেদের অভিজ্ঞ বৈমানিকদের ৫৭ বছর বয়সে অবসরে পাঠাচ্ছে। আবার তাঁদের চেয়ে বেশি বয়সের, ৬২-৬৩ বছরের বিদেশি পাইলট আনছে দ্বিগুণ বেতন ও সুবিধা দিয়ে। বিদেশি বৈমানিকদের মূল বেতন মাসে ১২ হাজার মার্কিন ডলার (আয়করমুক্ত)। পাঁচ তারকা হোটেলে থাকাসহ সব সুবিধা ধরলে একেকজন বিদেশি পাইলটের পেছনে মাসে খরচ দাঁড়ায় ১৮ হাজার মার্কিন ডলারের (১৪ লাখ টাকা) বেশি। অপরদিকে দেশি বৈমানিকদের সবকিছু মিলিয়ে বেতন দাঁড়ায় নয় হাজার ২০০ ডলার। বিদেশিদের চার সপ্তাহ কাজের পর দুই সপ্তাহ ছুটি। অর্থাৎ তিন মাসে ছুটি দাঁড়ায় এক মাস। আর, একই বিমানের দেশি পাইলটরা এক মাস কাজ করে আট দিন ছুটি পাওয়ার কথা থাকলেও ছুটি পান চার দিন।জানতে চাইলে ফ্লাইট পরিচালন শাখার পরিচালক ক্যাপ্টেন ইশরাত হোসেন বলেন, বোয়িং ৭৭৭-এর বৈমানিক সংকট আছে। আপাতত সংকট সামাল দিতে এখন চারজন বিদেশি বৈমানিক আনা হয়েছে। আরও আটজন শিগগিরই আনা হবে।বাংলাদেশিদের অবসরের বয়সসীমা না বাড়িয়ে কেন বিদেশি পাইলটদের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছেন, এ প্রশ্নের জবাবে ক্যাপ্টেন ইশরাত বলেন, বিমানে নিজস্ব বৈমানিকদের চাকরি চলে বিমানের সঙ্গে তাঁদের চুক্তি অনুযায়ী। তাই সরকারি আইন অনুযায়ী বয়স বাড়ানো হয়নি। তিনি দাবি করেন, দেশি অভিজ্ঞ বৈমানিকদেরও চুক্তিভিত্তিক দেশীয় দরে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।বাস্তবে সবার ক্ষেত্রে এটা পুরোপুরি সত্য নয়। সম্প্রতি অবসরে যাওয়া বোয়িং ৭৭৭-এর একাধিক দেশি বৈমানিককে সাত হাজার ডলার বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আবার আয়কর কাটা যাবে এক হাজার ২০০ ডলার। এতে তাঁরা সম্মত হননি। কম বেতন প্রস্তাব করে দেশি বৈমানিকদের নিরুৎসাহিত করার নেপথ্যে বিদেশিদের কাছ থেকে ‘কমিশন-বাণিজ্যের’ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে বিদেশি বৈমানিক আনার ক্ষেত্রে তাঁদের বিষয়ে নিজ নিজ দেশের পুলিশের প্রতিবেদন, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষাসহ অনেক দরকারি বিষয় দেখা হচ্ছে না। সম্প্রতি মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের নিখোঁজের ঘটনার পর এ  সুত্রঃ প্রথম আলো
  • তৈরী পোশাক শিল্প টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
    রানা প্লাজা ধসের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট দেশী-বিদেশী নানা চাপের মুখে বাংলাদেশে তৈরী পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। ৩৫ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এবং রফতানি বাণিজ্যে ৮০ শতাংশ অবদান রক্ষাকারী এ খাতটি গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী ২৪ এপ্রিল সাভারের ভয়াবহতম রানা প্লাজা ধসের বর্ষপূর্তিতে নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল এসব কথা বলেন তিনি। ধ্বংসের হাত থেকে এ শিল্পকে রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শ্রমিক, উদ্যোক্তা, ক্রেতা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি।কেবল একটি ভবনে একাধিক কারখানা থাকার অপরাধে বায়ারদের পক্ষ থেকে প্রচুর অর্ডার প্রত্যাহার করে নেয়ার তীব্র সমালোচনা করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ২০ বছর ধরে ক্রেতারা এই শিল্পের সাথে কাজ করে আসছেন। এখন শুধু শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে কাজ করার জন্য সে কারখানা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গত চার বছরে পোশাক শ্রমিকদের বেতন বেড়েছে ২১৯ শতাংশ। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খরচ বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এই হিসেবে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। এ ছাড়া ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দাম কমেছে পাঁচ শতাংশ। তিনি এই অবস্থায় শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে অর্ডার বাতিল না করে পোশাকের দাম বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু মুখে অনুভূতি প্রকাশ করে নয়, কার্যকরভাবে শ্রমিকদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। রানা প্লাজার তিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য তহবিল গঠন করতেও ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।রানা প্লাজা ধসে তিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও ৪০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করেছে জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, অনতিবিলম্বে এ তহবিল থেকে সহায়তা প্রদান শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি। পোশাক শিল্পের সব ব্র্যান্ড এ ব্যাপারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দুঃখের বিষয়, আমরা শ্রমিক ভাইবোনদের কল্যাণে বিভিন্ন পদপে নিলেও ক্রেতারা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করছেন না। তিনি বলেন, পোশাক শিল্পে গত আট বছরে ৩৮টি ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে আর চলতি বছরে ১৫০টি ট্রেড ইউনিয়ন হয়েছে। ক্রেতারা এই কাজগুলো দেখছেন না। তাদের প্রতি আমাদের একান্ত অনুরোধ, শুধু মুখে সহানুভূতি প্রকাশ না করে কার্যকরভাবে শ্রমিক ভাইবোনদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। তাদের জন্য তহবিল গঠন করে পাশে এসে দাঁড়ান। শ্রম সচিব মিকাইল শিপার, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিকেএমইএ’র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমইএ’র সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম, এস এম মান্নান কচিসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।রানা প্লাজার তিগ্রস্তদের জন্য এখন পর্যন্ত ১৪ কোটি ৫০ লাখ আট হাজার টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এর মধ্যে চিকিৎসা বাবদ তিন কোটি ৯০ লাখ, বেতনভাতা বাবদ সাত কোটি ৬০ লাখ, প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে দুই কোটি, প্রসূতি মায়ের জন্য চার লাখ ২০ হাজার, পুনর্বাসন বাবদ ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থায়ন হয়েছে। রানা প্লাজায় ধসে নিহতদের স্মরণে ২৪ এপ্রিল প্রতিটি কারখানায় কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিজিএমইএ ভবনের সামনে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট সব সংগঠন ও মালিকদের নিয়ে শোক র‌্যালি করা হবে। তা ছাড়া নিহতদের স্মরণে দোয়া ও মুনাজাত করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রমসচিব মিকাইল শিপার বলেন, শ্রমিকদের তিপূরণ দেয়ার সরকারি মানদণ্ড নি¤œমানের। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সহায়তা দেয়া হবে। সেই ল্েয গঠন করা তহবিলে এ পর্যন্ত এক কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার জমা পড়েছে। চার কোটি ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মিকাইল শিপার বলেন, রানা প্লাজা ধসের পরে শ্রম আইন সংশোধন, মজুরি বৃদ্ধি, পরিদর্শন বিভাগে উন্নতি ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানান সচিব। তা ছাড়া ছয় মাসের মাথায় প্রধান পরিদর্শক নিয়োগ করাকেও সরকারের বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেন তিনি। সুত্রঃ  নয়া দিগন্ত
  • ভারত থেকে অপ্রক্রিয়াজাত তুলা রফতানি কমতে পারে
    তুলা মজুদ নীতি থেকে সরে আসছে চীন। ফলে দেশটির তুলা আমদানি কমতে পারে। এতে আগামী মৌসুমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভারতের রফতানিতে। কারণ ভারতে উত্পাদিত তুলার সিংহভাগই রফতানি হয় চীনে। তাই আগামী মৌসুমে (অক্টোবর ’১৪-সেপ্টেম্বর ’১৫) ভারত থেকে অপ্রক্রিয়াজাত তুলা রফতানি কমতে পারে ২০ শতাংশ। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কটন করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের।কটন করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান এম বি লাল জানিয়েছেন, প্রতি বছরই ভারতের তুলা রফতানি কমছে। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৭০ লাখ থেকে সাড়ে ৭০ লাখ বেলের বেশি তুলা রফতানি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এদিকে চলতি মৌসুমে দেশটির তুলা রফতানি কমতে পারে ৬ শতাংশ। বিশ্বের বৃহত্তর তুলা আমদানিকারক দেশ চীন। দেশটি ভারত থেকে ৬০ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তুলা আমদানি করে থাকে। ভারতে উত্পাদিত তুলার অন্য আমদানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম।বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর তুলা উত্পাদন ও রফতানিকারক দেশ ভারত। রাবার বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ মৌসুমের এ পর্যন্ত দেশটি গড়ে মোট ৮২-৮৫ লাখ বেল তুলা রফতানি করেছে। সেপ্টেম্বর নাগাদ এর পরিমাণ বেড়ে ৯২-৯৫ লাখ বেল ছুঁতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১২-১৩ মৌসুমে দেশটির তুলা রফতানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১ লাখ বেল। এর আগের মৌসুমে যার পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ বেল।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চীন ভারত থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৭ টন তুলা আমদানি করেছিল, যা আগের মাসের তুলনায় ২০ শতাংশ কম। বেইজিং জানুয়ারিতে ঘোষণা দেয়, তারা তুলা মজুদ নীতি থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে। কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকি দিতে তারা এ পদক্ষেপ নিতে পারে।অ্যাকমি ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল জিতেন্দ্র সাহা বলেন, দুই মাস ধরে চীন ভারত থেকে তুলা ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। তাদের দেশে তুলা ক্রয়নীতি আরো স্বচ্ছতর হবে— এখন তারা সেই অপেক্ষাই করছেন বলে জানান জিতেন্দ্র।এদিকে ২০১৩-১৪ মৌসুমে ভারতের মিলগুলোয় অপরিশোধিত তুলার ব্যবহার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৮ লাখ বেলে। বিশ্বে অর্থনীতির গতি বাড়ছে এমন সংকেতে বস্ত খাতে চাহিদা বাড়ায় মিলগুলোয় সুতা তৈরিতে তুলার ব্যবহার বেড়ে যায়।এর আগের বছর যেখানে মিলগুলোয় ২ কোটি ৫০ লাখ বেল তুলা ব্যবহার হয়েছিল। আহমেদাবাদের তুলা ব্যবসায়ী অরুণ কুমার দালাল জানান, ভারতে মিলগুলোয় তুলার চাহিদা বেড়েই চলছে। বস্ত্র খাতের নতুন শিপিং ইউনিটে চাহিদা বাড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী মৌসুমে মিলগুলোয় তুলার ব্যবহার বেড়ে ৩ কোটি বেলে ঠেকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১১-১২ মৌসুমে মিলগুলোয় সর্বাধিক অর্থাত্ ২ কোটি ২৩ লাখ বেল তুলা ব্যবহার হয়েছিল।চাহিদা স্বাভাবিক থাকায় আগামী সপ্তাহে ভারতে তুলার দাম কমতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। গত শুক্রবার গুজরাটে শংকর-৬ জাতের ভালো মানের প্রতি ক্যান্ডি (৩৫৬ কেজি) তুলা বিক্রি হয় ৪২ হাজার থেকে ৪২ হাজার ২০০ রুপিতে। এছাড়া এদিন বি-গ্রেড ও সি-গ্রেডের প্রতি ক্যান্ডি তুলা বিক্রি হয় যথাক্রমে ৩৯-৪০ ও ৩৫-৩৬ হাজার রুপিতে। সুত্রঃ বনিক বার্তা
  • অনেক দেশের চেয়ে ভালো মানের রড তৈরি হচ্ছে
    দেশের ইস্পাত খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এই খাতে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের (বিএসআরএম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহোসাইনআমীর আলীহোসাইনপ্রথম আলো: গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পর ইস্পাতশিল্পের সার্বিক অবস্থা এখন কেমন?আমীর আলীহোসাইন: ২০১৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব এখনো আছে এই খাতে। স্থিতিশীল অবস্থা বজায় থাকলেও এটি কাটিয়ে উঠতে এ বছর লেগে যাবে। ইস্পাতশিল্প খাতে যত সমস্যাই থাকুক না কেন, সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এ স্থিতিশীলতা বজায় না থাকলে এই শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাড়বে না।প্রথম আলো: ইস্পাতশিল্প খাতে এখন অবকাঠামোগত কী কী অসুবিধা মোকাবিলা করতে হচ্ছে?আমীর আলীহোসাইন: সবচেয়ে বড় সমস্যা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপ্রতুলতা। এ সমস্যার কারণে ভারী শিল্প খাতে পুরোদমে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বল্প মেয়াদে কোনো সমাধানও দেখতে পাচ্ছি না আমরা। চট্টগ্রামে বন্দরসুবিধা আছে। এ কারণে এখানে ভারী শিল্পও গড়ে উঠেছে। কিন্তু অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এসব সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। আবার শিল্পকারখানার জন্য একসঙ্গে বড় আকারের জমি পাওয়া কঠিন। সুবিধাজনক স্থানে জমি পেলে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় দামও বেশি। এ কারণে সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এসব বাধা দূর হবে না। মোটকথা, এ ধরনের ভারী শিল্পকারখানা সম্প্রসারণ কিংবা নতুন বিনিয়োগের জন্য প্রথমেই অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত।প্রথম আলো: দেশে উৎপাদিত ইস্পাতশিল্পের পণ্যের গুণগত মান কতটুকু বেড়েছে?আমীর আলীহোসাইন: একসময় গ্রাহকদের মধ্যে পণ্যের মানের ব্যাপারে সচেতনতা কম ছিল। এখন কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। গ্রাহকেরা সচেতন হচ্ছেন। ফলে উদ্যোক্তারাও মানের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন। কয়েক বছরের ব্যবধানে এই শিল্পের পণ্যের গুণগত মান বাড়ছে। যেমন, বিএসআরএম তৈরি রড সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে গুণগত মানের সনদ অর্জন করেছে। অনেকে দেশের চেয়ে ভালো মানের রড এখন দেশে তৈরি হচ্ছে। এখন মান খারাপ করে কারও টিকে থাকার সুযোগ নেই। এ খাতে প্রতিযোগিতাও অনেক বেড়েছে।প্রথম আলো: বিশ্বে জনপ্রতি গড়ে ইস্পাতের ব্যবহারের চেয়ে আমাদের দেশে ইস্পাতের ব্যবহার এখনো অনেক কম। এ ক্ষেত্রে মূল কারণ কী?আমীর আলীহোসাইন: জনপ্রতি ইস্পাতের ব্যবহার দিয়ে কোনো দেশের অগ্রগতির চিত্র বুঝে নেওয়া যায়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে ইস্পাতের ব্যবহারও বাড়বে। আমাদের এখানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন এখনো কম। ফলে ইস্পাতের ব্যবহার বাড়ার ক্ষেত্রে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন জরুরি। আবার আবাসন খাতের ধীরগতির কারণেও ইস্পাতের ব্যবহার আশানুরূপ হারে বাড়ছে না। আর বিকেন্দ্রীকরণ না হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সারা দেশে বিস্তৃতি হবে না। দেশের যেকোনো জায়গায় শিল্প গড়তে হলে উদ্যোক্তাদের ঢাকার মুখাপেক্ষী হতে হয়। ছোটখাটো বিষয়ে অনুমোদনে আঞ্চলিক প্রশাসনের ক্ষমতা থাকে না। ফলে শিল্পকারখানা—সবকিছুই ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। দেশের সব জেলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সমানভাবে না বাড়লে ইস্পাতের ব্যবহারও দ্রুতগতিতে বাড়বে না।প্রথম আলো: সামনে বাজেট আসছে। বাজেটে এই খাতের জন্য আপনাদের প্রত্যাশা কী?আমীর আলীহোসাইন: গত অর্থবছরের বাজেটে বিলেট আমদানিতে টনপ্রতি এক হাজার টাকা শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে স্ক্র্যাপের চেয়ে প্রায় আড়াই হাজার টাকা বেশি শুল্ক রয়েছে বিলেট আমদানিতে। এর চেয়ে বেশি বৈষম্য হলে মানসম্মত রডের দাম বাড়বে। ফলে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রকল্প বাস্তবায়নেও ব্যয় বাড়বে। এ খাতের উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে। ইস্পাত পণ্যে মান বজায় রাখতে হলে বিলেট ও স্ক্র্যাপ আমদানিতে শুল্ক-করে বৈষম্য বাড়ানো উচিত হবে না। তা ছাড়া উৎসে করের প্রভাব এই শিল্পে বেশি। কারণ, ইস্পাত পণ্য হলো উচ্চমূল্যের পণ্য। ফলে শতাংশ হিসেবে উৎসে করও অনেক বেশি আসে। মূল্য অনুপাতে মুনাফার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে উৎসে কর বেশি হয়ে যায়। এটি কমানো উচিত। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতেও শুল্ক-কর ১ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট করে দেওয়ায় বেশি উপকার হয়—এমন কার্যক্রম করা যাচ্ছে না।প্রথম আলো: দেশে ইস্পাত পণ্যের বাজারের সম্ভাবনা কেমন?আমীর আলীহোসাইন: উৎপাদনক্ষমতা অনেক বেশি থাকলেও এখন দেশে ইস্পাতের কমবেশি চাহিদা ৩০ লাখ টনেরও বেশি। প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে এ চাহিদা। চাহিদা বাড়তে থাকায় মানসম্মত রড তৈরিতে এখন বিলেট উৎপাদনে এগিয়ে এসেছেন অনেকে। আমাদের হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ টন বিলেট আমদানি করে রড তৈরি করা হয়। প্রায় ১০ লাখ টন স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে মেটানো হয়। তবে শিগগিরই এই চাহিদা দেশে পূরণ হবে। মিরসরাইতে বিএসআরএম গ্রুপের ১০ লাখ টন বিলেট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন কারখানা নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী বছরে এই কারখানায় বিলেট উৎপাদন শুরু হবে। অন্য উদ্যোক্তারাও এগিয়ে এসেছেন।প্রথম আলো: ইস্পাত পণ্যের রপ্তানির সম্ভাবনা কেমন?আমীর আলীহোসাইন: এখন খুবই সামান্য পরিমাণে ইস্পাত পণ্য রপ্তানি হয়। ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ইস্পাত পণ্য রপ্তানিতে অনেক শুল্ক-কর দিতে হয়। এটি বড় বাধা। তবে সামনে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে দেশীয় ইস্পাত রপ্তানির সুযোগ হবে। যেমন, ভারতের অন্য প্রদেশ থেকে ইস্পাত পণ্য অনেক দূরের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোয় পরিবহনে অনেক বেশি খরচ পড়ে। তাই ভারতের এসব রাজ্যে ইস্পাত পণ্যের চাহিদা পূরণ করতে পারেন এদেশীয় উদ্যোক্তারা। সুত্রঃ প্রথম আলো
  • চীনের আবাসন খাতের পড়তি বাজার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে প্রবৃদ্ধির
    চীনের আবাসন বাজার (প্রোপার্টি মার্কেট) নি¤œমুখী প্রবণতা বেইজিংয়ের প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি রোখার ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটির যে সামান্য কটি শক্তিশালী খাত রয়েছে তার একটি এই আবাসন খাত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই খাত দ্রুত তার চাঙ্গাভাব হারিয়ে ফেলছে।অর্থনীতির চালচিত্রের যেসব তথ্য-উপাত্ত মিলছে তাতে দেখা যায়, এক বছর আগের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে এটি গত ১৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শ্লথগতির প্রবৃদ্ধি। এতে দ্রুত নি¤œগামিতার লক্ষণ স্পষ্ট।আবাসন খাতের এই নি¤œগামিতায় এ খাতে বিনিয়োগ ও বিক্রি কমেছে এবং গৃহনির্মাণ সংকুচিত হওয়া শুরু হয়েছে বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকেই। এ খাতের দুর্বলতা নেতিবাচক ছাপ ফেলছে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো ৪০টি শিল্পে। এসব শিল্পের মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট থেকে ফার্নিচার শিল্প। এ ছাড়া শঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে, এতে ভোক্তাদের আস্থায় চিড় ধরছে।ইউবিএসের অর্থনীতিবিদ তাও ওয়াং তাদের মক্কেলদের কাছে পাঠানো নোটে উল্লেখ করেছেন, ‘আবাসন খাতে কর্মচাঞ্চল্যের ঘাটতি বা দুর্বলতা এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।’চীনে আবাসন খাতের বিনিয়োগ জিডিপির ১২ শতাংশ হবে প্রথম প্রান্তিকে। অথচ গত বছর এটি ছিল জিডিপির ১৫ শতাংশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স চীনের সরকারি উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এটি পেয়েছে।এ খাতটি তার উত্তাপ হারাতে শুরু করে গত বছরের (২০১৩ সাল) শেষদিক থেকে। এ সময় কর্তৃপক্ষ স্পেকুলেটিভ ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং ব্যাংক, গৃহ ক্রয় এবং ক্ষুদ্র ডেভেলপারদের ঋণদান করে। এর ফলেই বাজার পড়তির দিকে চলে যায়। সূত্র : রয়টার্স
  • উচ্চমূল্যে কেনা হচ্ছে এনার্জি বাল্ব
    উচ্চমূল্যে কমপ্যাক্ট ফ্লোরেসেন্ট লাইট (সিএফএল) বা এনার্জি বাল্ব কিনতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ইতিমধ্যে বিষয়টিতে আপত্তি দিয়েছে বাস্তবায়ন মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ বিভাগ (আইএমইডি)। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে তিনগুণ দামে বাল্ব কেনার এ প্রকল্পের কাজ আটকে দিয়েছে সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইফিশিয়েন্ট লাইটিং ইনিশিয়েটিভ ফর বাংলাদেশ (পার্ট-১ ও পার্ট-২) শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রকল্পের উদ্দেশ্য অদল-বদলের মাধ্যমে এনার্জি বাল্ব জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। এর প্রথম অংশে ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চীন থেকে ১ লাখ ৫ হাজার সিএফএল বাল্ব কেনা হয়। ওই সময় জিয়ামিন টপস্টার লাইটিং কোম্পানি লিমিটেড ও জিয়ামিন গোল্ড ইউনিয়ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতিটি এনার্জি বাল্বের দাম পড়ে দশমিক ৮৬ ডলার। প্রকল্পটির দ্বিতীয় অংশে একই বৈশিষ্ট্যের প্রতিটি বাল্ব ২ দশমিক ৫ ডলারে কেনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে ১ লাখ ৪০ হাজার বাল্ব কিনতে ব্যয় হবে ১৭৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির প্রত্যেকটি কেনাকাটায় অনিয়ম হয়েছে। প্রথম অংশটি বাস্তবায়নের তথ্যও যথাযথভাবে দেয়া হয়নি। তার ওপর নতুন করে কয়েক গুণ বেশি দামে সিএফএল বাল্ব কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওদিকে প্রথম দফায় সিএফএল বাল্বের বিষয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। ওই জরিপে নানা অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সিএফএল বাল্ব বিতরণ করা হয়েছে, এমন ১ হাজার ৪০০ গ্রাহকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে বিতরণ করা বাল্বের মধ্যে মাত্র ৫২ শতাংশ খুঁজে পাওয়া যায়। অভিযোগ উঠে, বাল্ব বিতরণের কথা বলা হলেও তা গ্রাহকের কাছে পৌঁছেনি। তাছাড়া বাল্ব নিম্নমানের বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যেখানে টিএইচডি ভোল্টেজ স্ট্যান্ডার্ড ৫ শতাংশ, সেখানে প্রথম অংশের বাল্বে ৩ শতাংশ পর্যন্ত আছে। প্রথম ধাপে বিতরণ করা সিএফএল বাল্বের ৩৪ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায় তিন মাসের মধ্যেই। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) এক সমীক্ষা থেকে এ তথ্য জানা যায়। এতে দেখা যায়, ৪৫ লাখ ৯০ হাজার বাল্ব শুরুতেই অকার্যকর হয়ে যায়। ফলে যে পরিমাণ কার্বন উৎপাদন কমার কথা, তা কমেনি। এ কারণে প্রথম দফায় বিতরণ করা ১ লাখ ৫ হাজার সিএফএল বাল্ব থেকে ৬ দশমিক ৯৪ সিআর (কার্বনের মাত্রা) বাবদ ৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকা হারাচ্ছে সরকার। আবার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে বাল্ব না কিনেই সভা-সেমিনারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বড় অঙ্ক ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথম দফায় মান বজায় রাখা যায়নি বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এমনকি চীন থেকে কেনা এসব সিএফএল বাল্বের পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। সুত্রঃ মানব জমিন
View All
Latest DSE News
  • Instrument RECKITTBEN resumed - By the Stock Exchange Authorities


    The Company will be placed in &quot;A&quot; category from existing &quot;B&quot; category with effect from April 21, 2014 as the Company reported disbursement of stock dividend @ 10% for the year ended on December 31, 2013.


    The Company has requested the concerned shareholders to collect their cash dividend warrants for the year 2013 from 10:00 AM to 4:00 PM from the Company's share office located at Eunoos Trade Center, 52-53, Dilkusha C/A (Level-2), Dhaka-1000 on 21.04.14 (holding Folio/BOID 12014700 to 12019300), on 22.04.14 (holding Folio/BOID 12019400 to 12028000), on 23.04.14 (holding Folio/BOID 12028100 to 12036200), on 24.04.14 (holding Folio/BOID 12036300 to 16056600 &amp; all Paper shares).


    Nikita &amp; Company Limited, one of the Corporate Sponsors of the Company, has expressed its intention to sell 73,59,712 shares out of its total holding of 1,43,02,837 shares of the Company at prevailing market price (In the Block/odd lot Market) through Stock Exchange within next 30 working days.


    As per Regulation 30 of DSE Listing Regulations, the Company has informed that a meeting of the Board of Directors will be held on April 29, 2014 at 3:30 PM to consider, among others, audited financial statements of the Company for the year ended on December 31, 2013.

View All


AGNISYSL 22.20 20.20 2.00 9.90
FAMILYTEX 56.00 51.00 5.00 9.80
RAHIMAFOOD 46.30 42.20 4.10 9.72
RNSPIN 29.40 26.80 2.60 9.70
BDFINANCE 17.00 15.50 1.50 9.68
BDWELDING 19.70 18.30 1.40 7.65
CVOPRL 757.90 705.40 52.50 7.44
ANLIMAYARN 25.00 23.30 1.70 7.30
NHFIL 29.00 27.10 1.90 7.01
AMBEEPHA 305.60 285.80 19.80 6.93


Welcome to

Our mission is simple - to make you a better investor so that you can invest conveniently at Bangladesh stock exchange. Our Stock Bangladesh tool lets you create the web's best looking financial charts for technical analysis. Our Scan Engine shows you the Bangladesh share market's best investing opportunities.

In today's world, if you rely on fundamental analysis, brokers advise, share price information, newspaper articles or business channels for your investing or trading decisions, you are asking for a painful experience in the markets.

Whether you are a first time investor, a seasoned pro, an "in and out" day trader or a long term investor at Dhaka stock exchange, will provide you with the necessary information you need for maximum profits and success in today's dynamic markets.Initially we are covering Dhaka share market.

Our goal is to help traders and investors of Bangladesh share market to achieve above-average returns from the markets by providing them with profitable trading signals and at the same time protect their trading capital from large drawdowns with our sound money management principles.

The methods used to analyze securities and make investment decisions fall into two very broad categories: fundamental analysis and technical analysis. Fundamental analysis involves analyzing the characteristics of a company in order to estimate its value. Technical analysis takes a completely different approach; it doesn't care one bit about the "value" of a company or a commodity. Technicians (sometimes called chartists) are only interested in the price movements in the market.

Despite all the fancy and exotic tools it employs, technical analysis really just studies supply and demand in a market in an attempt to determine what direction, or trend, will continue in the future. In other words, technical analysis attempts to understand the emotions in the market by studying the market itself, as opposed to its components. If you understand the benefits and limitations of technical analysis, it can give you a new set of tools or skills that will enable you to be a better trader or investor.


+880 (02) 8189295
+880 (02) 8189296
+880 (02) 8189297